তানোরে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের ডিভোর্স নিয়ে চাঞ্চল্য

রাজশাহীর তানোরে সালিশ বৈঠকে দেনমোহরের অর্ধেক টাকায় অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের ডিভোর্স হয়েছে। গত বুধবার দুপুরে মুন্ডুমালা পৌর ভবনে মেয়রের কক্ষে এক সালিশে এই ডিভোর্স সম্পন্ন হয়েছে। উক্ত সালিশে মুন্ডুমালা ও তানোর পৌর মেয়রসহ কয়েকজন কাউন্সিলর এবং উভয় পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। পরে এই ডিভোর্সের খবর জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ দিন আগে মুন্ডুমালা পৌর এলাকার জনৈক ব্যক্তির ৭ম শ্রেণিতে পড়ুয়া (১৩) মেয়ের সঙ্গে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার জনৈক ব্যক্তির ছেলের ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দেনমোহরে কাজি অফিসে বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর বিপত্তি বাধে ছেলের ঘর সাজানো নিয়ে। যৌতুক হিসেবে ছেলে তার ঘর না সাজিয়ে দিলে বউ নিয়ে বাড়ি যাবে না বলে জানিয়ে দেয়। এ নিয়ে উভয় পরিবারসহ নবদম্পতির মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়।    সূত্র মতে, গত বুধবার দুপুরে মুন্ডুমালা পৌরসভার মেয়র সাইদুর রহমান, তানোর পৌরসভার মেয়র ইমরুল হকসহ মুন্ডুমালা পৌরসভার কয়েক জন কাউন্সিলর উভয়পক্ষের লোকজন ডেকে পৌরভবনে সালিশে বসেন। উক্ত সালিশে বিয়ের দেনমোহর ১ লাখ ১০ হাজার টাকার মধ্যে ৫৫ হাজার টাকা ছেলে পক্ষের নিকট থেকে আদায় করে কাজী ডেকে নবদম্পতির ডিভোর্স করিয়ে দেওয়া হয়। তবে দেনমোহর বাবদ আদায়কৃত ৫৫ হাজার টাকার মধ্যে মেয়ে ও তার পরিবারকে ৪৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি ১০ হাজার টাকা সালিশে খরচ হয়েছে বলে জানানো হয়।

এদিকে দুই মেয়র ও কাউন্সিলরদের এহেন কাজে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। মুন্ডুমালা পৌর এলাকাবাসী বলছেন, মুন্ডুমালা পৌর ভবন এখন সালিশ বৈঠকের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। তাদের দেওয়া রায় মানতে সবাই বাধ্য, নইলে ‘সমস্যা’ আছে।

এ বিষয়ে মুন্ডুমালা পৌর মেয়র সাইদুর রহমান বলেন, উভয় পরিবারের অভিভাবকদের উপস্থিতি ও সম্মতিতে বিষয়টি আপস-নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এতে কেউ আপত্তি করেনি। বরং খুশিই হয়েছে।