বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর তার প্রতিবাদে, বিচারের দাবিতে প্রথম কবিতা লিখেছিলেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর সারা দেশের মানুষ যখন ভয়ে তটস্থ তখন কবি সমস্ত ভয়ভীতি তুচ্ছ করে লিখেছিলেন বঙ্গবন্ধুর কথা। কবিতার পঙিক্ততে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন প্রতিবাদ। জানিয়েছিলেন বিচারের দাবি। তার কবিতার পঙিক্তমালা তখন গোটা জাতির মানুষের চেতনায় ছড়িয়ে দিয়েছিল বিদ্রোহের আগুন। ‘আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি’ কবি নির্মলেন্দু গুণের এ কবিতাটি পৃথিবীর জঘন্যতম এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার করে তুলেছিল দেশের মানুষকে।
১৯৭৭ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি সকালে বাংলা একাডেমির কবিতার আসরে তিনি কবিতাটি পাঠ করেন। ‘সমবেত সকলের মতো আমারও স্বপ্নের প্রতি পক্ষপাত আছে,/ ভালোবাসা আছে? শেষ রাতে দেখা একটি সাহসী স্বপ্ন গতকাল/ আমাকে বলেছে, আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি। / আমি তার কথা বলতে এসেছি।.... আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি,/ আমি আমার ভালোবাসার কথা বলতে এসেছিলাম।’
পরে তার এই কবিতা বিভিন্ন লিটল ম্যাগে প্রকাশিত হয়। তরুণ সংস্কৃতি কর্মীরা লিফলেট আকারে প্রকাশ করে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয় কবিতাটি। সেই অবরুদ্ধ সময়ে মানুষের মনের অনুচ্চারিত এই দাবি নির্মলেন্দু গুণের কবিতার মধ্য দিয়ে সারা দেশের মানুষকে জাগিয়ে তুলেছিল।
কবি নির্মলেন্দু গুণ জানান, ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এ কবিতা পাঠের পর ইউনাইটেড পিপলস পার্টির (ইউপিএল) তত্কালীন সভাপতি ক্যাপ্টেন আব্দুল হালিম চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক এনায়েতুল্লাহ খান এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘বাংলা একাডেমির কবিতা পাঠ ও সীমান্তে ভারত সমর্থিত কাদেরিয়া বাহিনীর হামলা অবিচ্ছিন্ন ঘটনা।’
এর কয়েক বছরের মধ্যেই ১৯৮০ সালে কবি কামাল চৌধুরী, লিয়াকত আলী লাকী, সাজেদ আকবরসহ বেশ কয়েক জনের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রতিবাদে প্রতিবাদী অডিও ক্যাসেট বের হয়। সেখানে কবি কামাল চৌধুরী একটি গান লেখেন, আর লিয়াকত আলী লাকী দুটি গান লেখেন। আর এই তিনটি গানেরই সুর করেন লিয়াকত আলী লাকী।
এই ক্যাসেটে নির্মলেন্দু গুণের ‘স্বাধীনতা শব্দটি কিভাবে আমাদের হল’, লুত্ফর রহমান রিটনের ‘খুনে রাঙ্গা সূর্যটা’সহ বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত কবিতা ও গান স্থান পেয়েছিল। যা সারা দেশে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদে সোচ্চার হতে প্রেরণা জুগিয়েছিল। পরে এই ক্যাসেটটি আওয়ামী লীগ পুনঃপ্রকাশ করে।
ইত্তেফাক/বিএএফ