পরিবর্তনশীল ই-কমার্স খাতের জন্য ভোক্তা অধিকার আইনেও সংশোধন প্রয়োজন

দেশে ই-কমার্স খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রয়োজন। একটি কার্যকর ই-কমার্স ইকোসিস্টেমের জন্য ভোক্তাদের আস্থা, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে অসাধু উদ্যোক্তাদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল এ খাতের জন্য বিদ্যমান নীতিমালা এবং ভোক্তা অধিকার আইনেও সংশোধন ও সংস্কার করা প্রয়োজন।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘ই-কমার্স খাতের বিকাশে টেকসই ইকোসিস্টেম প্রণয়ন’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সংলাপে বক্তারা একথা বলেন। গতকাল আয়োজিত এই সংলাপে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, দেশে ২০২০ সালে ই-কমার্স খাতে প্রায় ২০০ কোটি ডলার লেনদেন হয়েছে এবং ২০২১ সালে এখাতে প্রায় ২৫০ কোটি ডলার লেনদেন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২০ সালে এফ-কমার্স খাতে লেনদেনের পরিমাণ ৩২০ কোটি টাকা, যা আরো বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, এখাতের কর্মকাণ্ডের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের কারণে ডিজিটাল ব্যবসায় বেশ ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনার জন্য তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, জনগণের আস্থা ধরে রাখতে রেগুলেশন থাকা প্রয়োজন এবং এ লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ই-কমার্স খাতে একটি এসওপি প্রণয়ন করেছে, যার মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন। পণ্য ডেলিভারির পরপরই গ্রাহকদের পণ্য প্রাপ্তির তথ্য প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হলে, এখাতে আরো অগ্রগতি হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। বাণিজ্য সচিব আরো বলেন, ই-কমার্স খাতের উন্নয়নে সরকার একটি সহায়ক নীতিমালা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠমো উন্নয়নের জন্য কাজ করছে, তবে প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল এ খাতের জন্য বিদ্যমান নীতিমালা এবং ভোক্তা অধিকার আইনেও সংশোধন ও সংস্কার করা প্রয়োজন।

সংলাপে নির্ধারিত আলোচনায় ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এ কে এনামুল হক, ই-ক্যাবের জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল, নগদ-এর প্রধান তথ্য কর্মকর্তা আশীষ চক্রবর্তী, দারাজ বাংলাদেশ-এর চিফ অপারেটিং অফিসার খন্দকার তাসফিন আলম, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক খুরশেদ আনোয়ার, পাঠাও-এর সভাপতি ফাহিম আহমেদ এবং তানজিব আলম অ্যান্ড এসোসিয়েটের হেড অফ চেম্বার ব্যারিস্টার কে এম তানজিব-উল-আলম প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।

ব্যারিস্টার কে এম তানজিব-উল-আলম ই-কমার্স খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান, সেই সঙ্গে অসাধু উদ্যোক্তাদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিতকরণের প্রস্তাব করেন। এখাতের ইকোসিস্টেমের জন্য ভৌত অবকাঠামো তৈরিতে সরকারকে উন্নয়ন বাজেট থেকে বরাদ্দ প্রদানের প্রস্তাব করেন, একই সঙ্গে সরকারের বিদ্যমান অবকাঠামোসমূহ আরো কার্যকর ভাবে কাজে লাগানোর ওপর জোরারোপ করেন।

অধ্যাপক এ কে এনামুল হক ই-কমার্স খাতের অভিযোগ সমাধানের জন্য একটি সমন্বিত অবকাঠমো তৈরির প্রস্তাব করেন। মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, এ খাতের সঙ্গে সরকারের বেশকিছু মন্ত্রণালয় এবং সংস্থার ভূমিকা থাকলেও সমন্বয়ের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘ডিজিটাল কমার্স সেল’-এর কার্যক্রম দ্রুততার সঙ্গে শক্তিশালী করা এবং এর আওতায় একটি নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, ই-কমার্স খাতের ক্রস-বর্ডার ট্রেডিং-এ বিলিয়ন ডলার অর্জনের সুযোগ রয়েছে, তবে তা অর্জনে প্রয়োজনীয় নীতিমালা জরুরি। তিনি জানান, বর্তমানে দেশে ফেইসবুক নির্ভর উদ্যোক্তাদের সংখ্যা প্রায় ৫-১০ লক্ষ, তাই এখাতের প্রতি সকলকে আরো মনোযোগী হতে হবে।