সরানো হচ্ছে ঘরবাড়ি
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শফিক আহমেদ বলেন, পদ্মার যে অংশটি ভাঙছে, এটি একটি চর। এখানে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নেই। তারপরও আইবাঁধ ও ক্লোজবাঁধ স্থাপনের জন্য আগামী ১৭ আগস্ট দরপত্র আহ্বান করার কথা রয়েছে
বাঘা (রাজশাহী) সংবাদদাতা
বাঘায় পদ্মায় পানি বৃদ্ধির কারণে দুই সপ্তাহ ধরে শুরু হয়েছে ভাঙন। ইতিমধ্যে নদী তীরবর্তী পাঁচটি গ্রামে ৯০ ফুট করে কৃষিজমি বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৪ শতাধিক কৃষক। ঘরবাড়ি স্থানান্তর করে নিয়েছেন ৩০০ পরিবার। এছাড়া ঘরবাড়িসহ চরাঞ্চলে অবস্থিত একটি কমিউনিটি ক্লিনিক হুমকিতে রয়েছে। ৩ নম্বর কালিদাসখালীচর ও চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে আমার আট বিঘা আমবাগান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এমনকি আমার বাড়িটাও হুমকির মধ্যে রয়েছে। ভাঙন থেকে মাত্র ৬০ মিটার দূরে রয়েছে বাড়ি।
সরেজমিন পদ্মার চরাঞ্চল নিয়ে গঠিত চকরাজাপুর ইউনিয়নের অধীন কালিদাসখালি, লক্ষ্মীনগর, চৌমাদিয়া, দিয়ার কাদিরপুর ও চকরাজাপুর এলাকা ঘুরে লক্ষ করা গেছে ভয়াবহ ভাঙন চিত্র। অনেকের ঘরবাড়িসহ হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে আছে চরাঞ্চলের কিমিউনিটি ক্লিনিকটি। ইতোমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে টিন দিয়ে নির্মাণকৃত চকরাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতি বছরই নদী তীরবর্তী অঞ্চলে কমবেশি ভাঙনের চিত্র ফুটে ওঠে। তবে অধিকাংশ লোকজন এই ভাঙনের জন্য নদী থেকে বালু উত্তোলনকে দায়ী করেছেন। গত কয়েক বছরে রফিকুল ইসলাম মালিথা, আজিবার মালিথা, কুদরত আলী, হাফিজুর রহমান, নয়ন পীর, শমসের আলী, জামাল উদ্দিন, শামসুদ্দিন রেন্টু, আজাদ শেখ, গোলাম মোস্তফা, আসাদুজ্জামান, মনছুর শেখ ও বাবলু দেওয়ানের অনেক জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী তীরবর্তী স্থানীয় লোকজন জানান, ঐ এলাকার প্রায় চার কিলোমিটার বাঁধ অরক্ষিত রয়েছে।
চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ফজলুল হক বলেন, বর্তমানে নদীভাঙনের কারণে চকরাজাপুর বলে কোনো চিহ্ন নেই। আমার ওয়ার্ডের তিন ভাগের দুই ভাগ পদ্মার গর্ভে চলে গেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ভাঙন আরো তীব্র হতে পারে। ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আনোয়ার শিকদার বলেন, গত কয়েক বছরে আমার প্রায় ৩০ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া আমার নির্বাচনি ওয়ার্ডের কোনো চিহ্ন নেই। এই ওয়ার্ডের ৩ শতাধিক পরিবার দুই বছরের ব্যবধানে অন্যত্র চলে গেছে। চকরাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, বর্তমানে ভাঙনের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, পদ্মার ভাঙন রোধে বাঁধের কাজ শিগিগর শুরু করা হবে। ভাঙনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শফিক আহমেদ বলেন, পদ্মার যে অংশটি ভাঙছে, এটি একটি চর। এখানে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নেই। তারপরও আইবাঁধ ও ক্লোজবাঁধ স্থাপনের জন্য আগামী ১৭ আগস্ট দরপত্র আহ্বান করার কথা রয়েছে।