বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধিকার আন্দোলনের রয়েছে এক গৌরবময় ইতিহাস। সেই ইতিহাসের পাতায় ধ্রুবতারার মতো জ্বলজ্বল করা এক নক্ষত্রের নাম বঙ্গবন্ধু। যিনি আমৃত্যু স্বপ্ন দেখেছেন ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও ন্যায়-সাম্যের এক দেশের। যে দেশে ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, গোষ্ঠী বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি শোষণ-বৈষম্য করা হবে না। সেই স্বপ্নে বিভোর বাঙালি সংস্কৃতি ও দেশপ্রেমে বলীয়ান মধুমতি পারের ছোট্ট খোকা বিশ্বের বুকে এমন এক মহান দেশের জন্ম দেন যার উন্নয়ন, অগ্রগতি আর অর্জনে বিশ্ব এখন অবাক তাকিয়ে রয়।
মহানায়কের বর্ণাঢ্য জীবন যুগ-যুগান্তরে দেশ, জাতি, ধর্ম-বর্ণ, রাজনীতিসহ সর্বত্র এক অনুকরণীয় আদর্শ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি এক অনির্বাণ আলোক শিখা। ত্যাগ-তিতিক্ষা, মহানুভবতা, ন্যায়, সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, নেতৃত্ব ও মানুষের জন্য রাজনীতির এক অনন্য সমন্বয় বঙ্গবন্ধু। যার প্রতিটা পরতে পরতে তরুণদের পথচলার দিকনির্দেশনা আর এগিয়ে চলার প্রেরণা রয়েছে। দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য তার যে দীর্ঘ সংগ্রাম ও সাধনা, তার কোনো তুলনা নেই; যা এসময়ের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তরুণদের বড় শিক্ষা।
অসাম্প্রদায়িক চেতনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বঙ্গবন্ধু দৃঢ়চিত্তে ঘোষণা করেছেন, ‘এই বাংলার হিন্দু-মুসলমান, বাঙালি-নন বাঙালি যারা আছে তারা আমাদের ভাই, তাদের রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের উপরে, আমাদের যেন বদনাম না হয়।’ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখেছেন, তরুণদের শিক্ষা রয়েছে তা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দেশের সমৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করতে আমাদের দায়িত্ব নিজের প্রত্যেকটি কাজ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পাদন করে ভবিষ্যত্ বাংলাদেশ বিনির্মাণের হাতিয়ার হওয়া। শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘এই স্বাধীনতা তখনই আমার কাছে প্রকৃত স্বাধীনতা হয়ে উঠবে, যেদিন বাংলার কৃষক, মজুর ও দুঃখী মানুষের সকল দুঃখের অবসান হবে।’ নারীদের কীভাবে মূল্যায়ণ করতে হয় তরুণরা তা শিখতে পারে বঙ্গবন্ধু থেকে। মুক্তিযুদ্ধে বীরাঙ্গনাদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর সহমর্মিতা ও সহানুভূতির সমন্বয়ে যে মহানুভবতা দেখিয়েছেন তা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। তিনি বীরাঙ্গনাদের সবার বাবার পরিচয় হিসেবে ‘শেখ মুজিবুর রহমান’ নামটি লিখতে বলেছিলেন। একজন নারীর প্রতি তার এই যে সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ তা সর্বদা অনুকরণীয়। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর মানুষের প্রতি স্বার্থহীন ভালোবাসা, সাহসিকতা কিংবা তার আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব, বাগ্মিতা তরুণদের সবসময়ে সহজেই আকৃষ্ট করেছে, করছে ও ভবিষ্যতে করবে। তারুণ্যের চেতনায় ও অনুপ্রেরণায় বঙ্গবন্ধু যুগে যুগে আদর্শ, ন্যায়পরায়ণতা, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন, থাকবেন।
লেখক :শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া