তরুণদের দৃষ্টি জুড়ে বঙ্গবন্ধু

পৃথিবীর ইতিহাসে হঠাত্ই এমন দু-একজন ক্ষণজন্মা পুরুষের আবির্ভাব ঘটে যাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সে দেশের মানুষের সৌভাগ্যের দ্বার উন্মোচন করে দেয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আপামর বাঙালি জনতার হূদয়ের মণিকোঠায় তেমনই একজন মানুষ। বঙ্গবন্ধু নামটি যেন দৃঢ়-সুবিশাল, আস্থায়              সিদ্ধান্তে অবিচল এক পর্বতের নাম, বাঙালি তথা বিশ্বের বুকে মহান এক নেতার নাম, যিনি শোষিত-পরাধীন এক জাতিকে স্বাধীনতার অধরা সুখ এনে দিতে সর্বদা নিজের সর্বস্ব ত্যাগে প্রস্তুত ছিলেন। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অপশক্তির শাসন-শোষণের জাঁতাকলে যখন বাঙালি   জাতির জীবনীশক্তির প্রদীপ নিভু নিভু করে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছিল, তখনই আলোর মশাল হাতে মুক্তির দিশারি হয়ে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ   মুজিবুর রহমান।

শোষণ-বঞ্চনার শিকল ভেঙে মুক্তির স্বাদ এনে দিতে বঙ্গবন্ধু তার বজ্রকণ্ঠে ঘোষণায় পুরো জাতিকে এক করে স্বাধীনতার বীজমন্ত্র শুনিয়েছেন। তর্জনী আঙুলের ইশারায় এঁকে দিয়েছিলেন সাত কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার মানচিত্র। তার রাজনৈতিক মেধা, প্রজ্ঞা ও সুনিপুণ নির্দেশনায় বাঙালি জাতি অনুপ্রাণিত হয়ে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ও ত্রিশ লাখ প্রাণের বিনিময়ে পৃথিবীতে এঁকেছিলেন নতুন সীমারেখার মানচিত্র, আকাশে উড়িয়ে ছিলেন লাল-সবুজের নতুন পতাকা। তিনি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বারবার দেখিয়েছেন নিজের কঠোর সাধনা ও ত্যাগ-তিতিক্ষা। এমন কালজয়ী রাজনৈতিক নেতা পেয়ে বাঙালি জাতি সত্যিই গর্বিত।

দূরদর্শিতা ও সাহসের উজ্জ্বল শিখা জ্বালিয়ে নতুন পথের সন্ধান দিতে আজীবন লড়ে গেছেন এই অবিসংবাদিত নেতা। বাল্যকাল থেকেই অসাধারণ বাগ্মিতা, মানবিকতা, মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও নেতৃত্বের গুণে মানুষের হূদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু তার মেধা, দূরদর্শী জ্ঞান, সুপরিকল্পিত চিন্তাভাবনা দিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠন শুরু করেন এবং সফলভাবে সদ্য স্বাধীন দেশের অর্থনৈতিক এবং অর্থনীতির বাইরের উভয় খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেন।

তিনি ছিলেন একজন সফল রাজনীতিবিদ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মূর্ত প্রতীক। যিনি তরুণদের কাছে একাধারে জীবন সংগ্রামের, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার, লড়াকু সৈনিকের এক উজ্জ্বল আদর্শ। আন্দোলন-সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আজও তরুণ সমাজকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। দৈহিকভাবে বঙ্গবন্ধু মরণ হলেও তার অমিত আত্মবিশ্বাস, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, প্রগতিশীল ভাবনা, অকুতোভয় পদক্ষেপের জন্য তিনি থেকে যাবেন বাঙালির অন্তরে,                           অস্তিত্বে এবং চেতনার অস্থিমজ্জায়, আশা-আকাঙ্ক্ষার ভূমি সোনার  বাংলায় প্রতিটি কণায়।

 

লেখক : শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়