আমাতেই আশ্রিত ইতিহাস

বরেন চক্রবর্তী

 

আমার নাম তোমরা মুছে দিতে পারো গ্রন্থের পাতা থেকে

নতুন মনগড়া ইতিহাস পুনর্লিখনও করতে পারো

তোমাদের পছন্দমতো।

বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে এবং গুলিতে ঝাঁজরা করে

আমাকে তোমরা হত্যা করতে পারো সহস্রবার।

আহা! আমার দুঃখ হয় তোমাদের জন্য!

নিজেদের মতো করে সব ধ্বংসলীলা চালিয়েও

আমাকে তোমরা ধ্বংস করতে পারবে না কিছুতেই,

পরাজিত করতে পারবে না কোনো সূত্র-সমীকরণেই।

ভুলে যাও কেন? ইতিহাস তো ধ্বংস করা যায় না

বিলুপ্ত করা যায় না

মুছে ফেলা যায় না।

তোমরা আমার সম্মানহানির চেষ্টা করতে পারো

ধ্বংস করতে পারো আমার এপিটাফ।

এমনকি আমার নীতি এবং আদর্শের কণ্ঠনালীতে ছুরি চালাতে পারো,

কিন্তু জেনে রেখো, যা কিছু করবে তা বৃথা যাবে সব।

সত্যকে অস্পষ্ট করা যায়, বোকাবাক্সের মিথ্যার সমুদ্রে লুকিয়েও রাখা যায়।

শত শত পাঠ্যপুস্তক নতুন করে লিখে সত্যের ওপর

চমত্কার প্রলেপ ফেলা যায় গোছানো মিথ্যার।

সেই মিথ্যা দিয়ে কিছু সময়ের জন্য দেশকে সম্মোহিতও করা যায়।

কিন্তু সবই বৃথা যায় মহাকালের গ্রাসে।

কেন ভুলে যাও—সহস্রাব্দের পরেও ইতিহাস কিন্তু স্থির হয়েই থাকে!

যে পাতাগুলো আজ সবুজ, কাল বাদামি হয়ে যাবে।

উদ্ধত পাহাড় মিশে যেতে পারে মাটির সাথে, ফাটল ধরতে পারে পাথরে,

আকাশচুম্বী অট্টালিকা পরিণত হতে পারে ধূলিকণায়।

মহাকালের চোখের পলকেই ঘটতে পারে এসব ঘটনা ।

কিন্তু আমি থেকে যাবো অমল-ধবল-সত্য হয়ে।

কারণ আমাতেই আশ্রিত ইতিহাস।

সেজন্য অস্ত্র শানিয়ে বই থেকে শব্দগুচ্ছ মুছে ফেলা গেলেও

ধ্বংস করা যাবে না সত্যাশ্রিত স্মৃতি, সত্য সেখানে গেঁথে আছে গহিনে।

ভুলে যেয়ো না, ইতিহাস এক চিরন্তন শিখা—কাঁপছে অবিরাম।

সুতরাং মাটিচাপা ইতিহাস আবার উঠে আসবেই।

আমি সেই ইতিহাস।

এখন যা আছে, যা থাকবে ভবিষ্যতে—ক্ষয় হয়ে যাবে সেসব কিছুও।

কিন্তু অক্ষয় হয়ে থেকে যাবে আমার কথা।

(ইংরেজি থেকে অনুবাদ: তাপস কুমার দত্ত)