ইসলামে নারীদের সাজসজ্জার সীমারেখা

 

পোশাক সম্পর্কিত সাজসজ্জা :স্ক্যার্ট-ব্ল­াউজ বা স্ক্যার্ট-গেঞ্জি, প্যান্ট-শার্ট প্রভৃতি মুসলিম মহিলাদের  পোশাক নয়। যদিও তা ঢিলেঢালা হয় এবং টাইটফিট না হয়। কারণ এগুলো বিজাতীয় ও বিধর্মী নারীদের পোশাক। আর তাদের অনুসরণ ইসলাম সমর্থন করে না। হাদিসে এসেছে- ‘যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিল রাখে, সে তাদেরই দলভুক্ত হবে অর্থাত্ তার হাশর-নশর তার সঙ্গে হবে।’ (সুনানে আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ) বাড়িতেও মাহরামদের সামনে এমন পোশাক পরিধান করা উচিত যাতে গলা থেকে পায়ের গিঁট পর্যন্ত আবৃত থাকে। (আল ফাতওয়াল মুহিম্মাহ লিনিসাইল উম্মাহ) আরো জেনে রাখা উচিত যে, হাফপ্যান্ট, পাতলা গেঞ্জি ও শরীর দেখা যায় এমন পোশাক পরিধান ইসলামে নিষিদ্ধ। এমন পোশাক পরিধানকারী নারীদের পরিণতি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেন- ‘নগ্ন পোশাক পরিধানকারী নারী, যারা পুরুষদেরকে নিজেদের প্রতি আকৃষ্ট করে এবং নিজেরাও পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট হয়, তাদের মাথা বাঁকা উঁচু কাঁধ বিশিষ্ট উটের মতো হবে। তারা  তো জান্নাতে প্রবেশ করবেই না। এমনকি জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না।’ (সহিহ মুসলিম, মিশকাত) তবে এক্ষেত্রে প্রথমে ভাবতে হবে, নারীগণ কার জন্য বা কাকে দেখানোর জন্য সাজবেন। আল কোরআনুল কারিমে নারীদের সৌন্দর্য প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে মাহরাম ১৪  শ্রেণির পুরুষের সামনে ছাড়া। কাজেই নারী, নারীসদৃশ হিজড়া এবং মাহরাম পুরুষদের সামনে সাজসজ্জার প্রদর্শন বৈধ। তবে স্বামী ব্যতীত অন্য মাহরাম পুরুষের সামনে পেট ও পিঠের সৌন্দর্য প্রকাশ করা জায়েয নয়। (বাদায়ে)

প্রসাধনী সম্পর্কিত সাজসজ্জা : নারীদের প্রসাধনী সাজসজ্জার মধ্যে রয়েছে ফেস ফাউডার, আই ভ্রু, মাসকারা, আইলাইনার, আইশ্যাডো, পিংকিং ইত্যাদি। প্রসাধনী দ্বারা সাজসজ্জার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা অবশ্য কর্তব্য। যে সমস্ত প্রসাধনী হালাল বস্তু দ্বারা তৈরি এবং তাতে কোনো ক্ষতিকর বস্তু না থাকে তা ব্যবহার করা বৈধ। আর ক্ষতিকর বস্তু থাকলে তা ব্যবহার করা যাবে না। কেননা রাসূলুল্ল­াহ (স) বলেছেন- ‘দেহে ক্ষতি বা ক্ষতি সাধনের কোনো অনুমতি নেই।’ (সুনানে দারাকুতনী) নারীদের মধ্যে আরেকটি প্রসাধনী ব্যবহার খুবই স্বাভাবিক হয়ে গেছে। তা হলো- সুগন্ধি ব্যবহার। এ সম্পর্কে বিশ্বনবী (স) এরশাদ করেছেন- যে নারী সুগন্ধি ব্যবহার করল, অত:পর লোকদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করল এ ধারণা নিয়ে যে, লোকেরা যেন তার সুঘ্রাণ পায়, তাহলে সে নারী ব্যভিচারী। (সহিহ নাসাঈ)

শারীরিক সম্পর্কিত সাজসজ্জা: ভ্রু প্লাক করা ও আঁকাবাঁকা দাঁত ফ্যাশনের উদ্দেশ্যে  সোজা করে ব্রেস পরিয়ে ফাঁকা রাখা হারাম। হাদিস শরীফে এসেছে, আব্দুল্ল­াহ ইবনে মাসউদ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্ল­াহ তাআলা অভিসম্পাত করেছেন সেই নারীদের উপর যারা দেহাঙ্গে উল্কি উত্কীর্ণ করে এবং যারা করায়। তেমনি যারা ভ্রু চেঁছে সরু (প্লাক) করে, যারা সৌন্দর্য মানসে দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে, যারা মহান আল্লা­হর সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন আনে। (সহিহ  বোখারি)

নারীরা চুল কেটে ফ্যাশন করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। অথচ নারীদের জন্য চুল কাটা, কামানো বা ন্যাড়া করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নারীগণ চুল কাটতে পারবে কি-না এ প্রশ্নের উত্তরে শায়খ বিন বায (রহ) বলেন, ‘স্বামীর পছন্দ ও রুচিসম্মত হলে চুলের দৈর্ঘ্য কমানো দোষণীয় নয়। তবে দুইটি শর্ত রয়েছে- (১) পুরুষদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়া যাবে না। (২) অমুসলিমদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়া যাবে না। (ফাতাওয়া আল-মারআতিল মুসলিমা)

lলেখক : আলেম ও প্রাবন্ধিক