ওরা কাভার্ড ভ্যান থেকে রপ্তানি পণ্য চুরি করত

রপ্তানির উদ্দেশে কাভার্ড ভ্যানে করে চট্টগ্রাম বন্দরে নেওয়ার পথে গার্মেন্টস পণ্য চুরি করত চক্রটি। কৌশল হিসেবে পুরো মালামাল চুরি না করে ৩৫-৪০ শতাংশ চুরি করত যাতে চুরির বিষয়টি সহজেই ধরা না যায়। এছাড়াও সিলগালা তালা না ভেঙে কাভার্ড ভ্যানের পাশের বেষ্টনীর নাট-বল্টু খুলেও পণ্য চুরি করত তারা। নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানা এলাকা থেকে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের গার্মেন্টস মালামালসহ সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৪।

প্রথমে ধরা না পড়লেও রপ্তানি হওয়ার পর ক্রেতারা পণ্য কম বলে অভিযোগ পাঠাত। এসব কারণে ক্ষতিসহ বাইরের ক্রেতাদের কাছে সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছিল দেশীয় ব্যবসায়ীদের। গতকাল মিরপুরের পাইকপাড়ার র্যাব-৪-এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র্যাব-৪-এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, সম্প্রতি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, রাজধানীসহ গাজীপুর থেকে গার্মেন্টস মালামাল বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করার উদ্দেশে চট্টগ্রাম বন্দরে নেওয়ার পথে কিছুু কাভার্ড ভ্যান থেকে প্রায় ৩৫-৪০ শতাংশ দামি গার্মেন্টস মালামাল উধাও হয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় অপরাধীদের চিহ্নিত করতে ছায়া তদন্ত শুরু করি আমরা। এরই ধারাবাহিকতায় বন্দর থানাধীন তালতলা, ধামগড় এলাকা থেকে ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—সিরাজুল ইসলাম (২৭), মো. জহির (৪০), মো. জনি (২৪), মো. জমির খান (৪০), মো. নুর জামান (৫৮) ও মো. তাবারক হোসেন (৩৯)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৬ কোটি টাকা মূল্যের চোরাইকৃত ৪১ বস্তা ও ৫০৬ কার্টনভর্তি গার্মেন্টস সামগ্রী, মালামাল পরিবহনে ব্যবহূত দুটি কাভার্ড ভ্যান, একটি প্রাইভেট কার ও ১০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা চুরির বিভিন্ন কৌশল এবং বিক্রি করে টাকা ভাগাভাগির কথা স্বীকার করেছে।