ছোটবেলা থেকে লেখালেখির হাত ভালো থাকায় বাবা ভেবেছিলেন তার মেয়ে বড় হয়ে সাংবাদিক হবে। কিন্তু কখনো ভাবতে পারেননি শেষমেশ ক্যামেরার পিছনে ইতিহাস গড়বে। বলছি বাংলাদেশের সবচেয়ে কম বয়সি তরুণ শিল্পী কামরুন্নেসা মিরার কথা। সম্প্রতি তার বানানো থ্রিলার ঘরনার ওয়েব সিরিজ ‘পঁচিশ’ ওটিটিপ্লাটফর্মবিঞ্জে মুক্তি পেয়েছে। পঁচিশ নামকরণের পিছনে একটি কারণ হলো পঁচিশ বছর বয়সে তার লেখা প্রথম গল্প আজ মিডিয়ারন জরে। তিনি একাধারে একজন শিল্পী, সমাজকর্মী, ব্যবসায়ী, কাইটস কমিউনিকেশন্সের কর্ণধার এবং বর্তমানে ঢাকা নর্থ সিটি করপোরেশনের কনসালটেন্ট।
এইচএসসি পরীক্ষার পর তিনি আইবিএ তে ভর্তি হওয়ার জন্য কোচিং করেন। এরপর যখন আইবিএ তে চান্স পেলেন না তখন তার বাবার উত্সাহে ইউ ল্যাবের মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ভালোই চলছিল। হঠাত্ তার কাছের একজন মানুষের বেশকিছু টাকার প্রয়োজন ছিল। ঐ পরিস্থিতিতে তিনি তার এক বান্ধবী যে কি না একজন মডেল ছিল তার শরণাপন্ন হন। বান্ধবীর প্রলোভনে অভিনেত্রী হওয়ার জন্য বাংলাদেশ বিমানবন্দর জাদুঘরে একজন কাস্টিং ডিরেক্টরের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। তিনি ভেবেছিলেন এবার হয়তো তার সব সমস্যার অবসান হবে। কিন্তু পরিচালকের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর তৈরি হলো তার জীবনে এক নতুন সূচনা। পরিচয় না হলে আজ হয়তো এই মিরার জন্ম নাও হতে পারত। এক সময় মিরা সিদ্ধান্ত নিলেন কোনোরকম সমঝোতা ছাড়ায় সম্পূর্ণ নিজ দক্ষতা দিয়ে তিনি একদিন বড় শিল্পী হবেন। যাকে দেখে আর পাঁচটা মেয়েও যেন খুব সহজে এই জগতে নির্দ্বিধায় আসতে পারে।
তার এই মিডিয়া জগতে আসাটা প্রথম দিকে পরিবার মেনে না নিলেও বর্তমানে সবাই তাকে খুব সাপোর্ট করে। এমনকি আশপাশের লোকজনও তাকে নিয়ে গর্ব করে। যদি তার আবির্ভাব কোনো দূরবর্তী এলাকার রক্ষণশীল পরিবারে হতো তাহলে হয়তো এত সহজে এই জায়গায় তিনি আসতে পারতেন না। কারণ বর্তমান সমাজ ও সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এই পেশাটি মেয়েদের জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং। যারা এই পেশায় আসতে চায় তাদের উদ্দেশ্য মিরা বলেন ‘নিজের দক্ষতা, মেধা দিয়ে সম্পূর্ণ সম্মানের সঙ্গে এই দীর্ঘ পথ জয় করার মনোবল নিয়ে অগ্রসর হতে হবে। কারণ দিন শেষে আমদের পরিচয় আমরা মানুষ। আত্মসম্মান হলো আমাদের ভূষণ’।
ব্যক্তি জীবনে তার নাম অনেক সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। সামজ গড়তে নয়, বরং সমাজ পরিবর্তনের জন্য তিনি অল ফর অন, চাষি বোনসহ আরো নানা ধরনের সামাজিক সংগঠন তৈরি করেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত অল ফর অন সংগঠনটি ২০১৮ সালে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড জেতে। এছাড়াও তিনি দুস্থ ও অসহায় নারীদেরকে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য ইতিমধ্যে গ্রামে গ্রামে সেলাই মেশিন বিতরণ করছেন। বর্তমানে তার কাছে ভবিষ্যত্ চাওয়া বলতে তেমন কিছু নেই। কারণ একজন মানুষের যে চাওয়া পাওয়াগুলো থাকে সেগুলোর স্বাদ তিনি পেয়ে গেছেন। বরং বিশুদ্ধ সমাজ গড়াই তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। এছাড়াও তিনি চান বিনোদন জগত্ সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক চিন্তাভাবনাগুলো দূর করে ইতিবাচক তার দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করা।