আবশ্যিক বিষয়গুলোর মূল্যায়ন না করার সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক?

শিক্ষা মন্ত্রণালয় নভেম্বরে এসএসসি ও  ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে মাত্র তিন বিষয়ে তারা পরীক্ষা নিতে আগ্রহী। এইবারের এসএসসি ও এইচএসসি সমমানের পরীক্ষা হবে শুধু গ্রুপ বিষয়ের ওপর; আবশ্যিক বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হবে না। আবশ্যিক বলতে পরীক্ষা হবে না এসএসসিতে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত এবং এইচএসসিতে বাংলা, ইংরেজি ও আইসিটি এইসব বিষয়ে। কথা হচ্ছে এসএসসিতে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীর কাছে ইংরেজি-গণিত-বাংলার চেয়ে কি ইতিহাস, ভূগোল, পৌরনীতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ? আবার এসএসসিতে সাইন্সের শিক্ষার্থীদের ঐচ্ছিক বিষয় উচ্চতর গণিতেও মূল্যায়ন হবে না এইবার! উচ্চতর গণিত ছাড়া সাইন্সের শিক্ষার্থী কীভাবে এইচএসসিতে সাইন্সের গণিত সমস্যা সমাধান করবে? আবার এইচএসসিতে সাইন্সে যাদের ঐচ্ছিক বিষয় গণিত, তারা গণিত ছাড়া কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা  দেবে? এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়টি মূল্যায়নের বাইরে রাখা হয়েছে। অথচ এইচএসসি পড়ুয়া শিক্ষার্থীর এইচএসসি পরীক্ষা শেষে হওয়া মাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য ইংরেজি বিষয়ের ওপর প্রস্তুতি নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা ও ইংরেজির গুরুত্ব অন্য সব বিষয়ের চেয়ে বেশি। কিন্তু এবার এইচএসসি পরীক্ষায় নাকি ইংরেজি আর বাংলা উভয় বিষয়ের পরীক্ষা হবে না। সঙ্গে আইসিটি বিষয়েরও পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ—এজন্যই এইচএসসিতে আইসিটি আবশ্যিক। এই আবশ্যিক বিষয়গুলোর মূল্যায়ন না করার সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক? বাংলাদেশে হিসাববিজ্ঞান পড়েও ব্যাংকের অফিসার হওয়া যায়, আবার ইসলামের ইতিহাস পড়েও হওয়া যায়। শুধু দক্ষ হওয়া লাগে বাংলা, ইংরেজি, গণিত বিষয়ের ওপর। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে আকুল আবেদন এই যে, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা বিষয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হোক।

মোহাম্মদ শাহরিয়ার হাসান ইমন

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়