স্পোর্টস রিপোর্টার
টানা কয়েকটি সিরিজ হারের পর বেশ চাপে ছিলেন রাসেল ডমিঙ্গো। বাংলাদেশ দলের হেড কোচ হিসেবে তার অবস্থান নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল। শ্রীলঙ্কা সফরের আগেও এ প্রোটিয়া কোচকে বিদায় করে দেওয়ার গুঞ্জন উঠেছিল বিসিবিতে। পরে দলের তদারকি, ডমিঙ্গোর পারফরম্যান্স মূল্যায়নে লঙ্কা সফরে পাঠানো হয়েছিল বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজনকে। ঐ সফরে প্রথম টেস্ট ড্র করে স্বস্তি ফিরেছিল টাইগার শিবিরে।
তারপর জিম্বাবুয়ে সফর, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে হোম সিরিজে সাফল্য পাওয়ায় দৃশ্যপট বদলে গেছে। ডমিঙ্গোর ওপরও বিসিবির আস্থা বেড়েছে। তাতেই প্রোটিয়া এ কোচের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ এক বছর বাড়াতে যাচ্ছে বিসিবি। ২০২২ টি-২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত টাইগারদের ড্রেসিংরুমে থাকছেন ডমিঙ্গো।
গতকাল জাতীয় শোক দিবসে বিসিবি আয়োজিত মিলাদ-মাহফিল, দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে এমনটা জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। ডমিঙ্গোর মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তে করোনাকালীন সময়ের কঠিন বাস্তবতার প্রভাবও রয়েছে। কারণ এ সময়ে নতুন কোচ পাওয়া সহজ কর্ম নয়।
২০১৯ সালের আগস্টে হেড কোচ হিসেবে ডমিঙ্গোকে নিয়োগ দিয়েছিল বিসিবি। আগামী ২০ আগস্ট তার সঙ্গে দুই বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। দুই মাস পরই টি-২০ বিশ্বকাপ, তাই আপাতত বিশ্বকাপ পর্যন্ত থাকছেন ডমিঙ্গো।
টাইগারদের হেড কোচের চুক্তির মেয়াদ সম্পর্কে গতকাল বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ‘এটা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ডমিঙ্গোকে নিয়ে তো বিশ্বকাপ পর্যন্ত পরিকল্পনা আছেই। এটা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। তার চুক্তি বাড়ানোর সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। এই সিদ্ধান্তটা আমরা ডমিঙ্গোকেও জানাইনি, আমরাও আলোচনা করিনি। কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলেছি, আরো অনেকের সঙ্গে বলতে হবে। তারপর সিদ্ধান্তটা আমরা নেব।’
আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের আরেকটি আসর। সবমিলিয়ে ২০২২ টি-২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত টাইগার শিবিরে দেখা যাবে ডমিঙ্গোকে। নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, ‘আমরা খুব সম্ভবত এক বছরের জন্য চিন্তা ভাবনা করছি। দুটো টি-২০ বিশ্বকাপ আছে। এই দুটো টি-২০ বিশ্বকাপ পর্যন্তই আপাতত আমাদের চিন্তা আছে।’
সম্প্রতি ব্যাটিং কোচ হিসেবে ডমিঙ্গোর স্বদেশি অ্যাশওয়েল প্রিন্সকেও ২০২২ বিশ্বকাপ পর্যন্ত নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি। জাতীয় দলের বাকি কোচিং স্টাফদের চুক্তির মেয়াদ একই সময় পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।