স্পোর্টস ডেস্ক
চলে গেলেন জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপ জেতা ও বায়ার্ন মিউনিখের কিংবদন্তি ফুটবলার গার্ড মুলার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। পাঁচ বছর আগে আলঝাইমার রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন মুলার। এরপর থেকে বিশেষ যত্নে বাড়িতেই বেশি সময় কাটিয়েছেন তিনি।
নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছেই হয়তো অচেনা মুলার। তবে তার সময়ে তিনি ছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার। কেউ কেউ আবার সেরা বলতেও কোনো দ্বিধাবোধ করেন না। জার্মানির (তখন পশ্চিম জার্মানি) হয়ে আট বছরের ক্যারিয়ারে ৬২ ম্যাচে ৬৮ গোল করেন মুলার। বিশ্বকাপ ও ইউরো জেতেন একটি করে। দুটোতেই তার ভূমিকা ছিল অসামান্য।
১৯৭৪ বিশ্বকাপে মুলারের গোলেই ফাইনালে ইয়োহান ক্রুইফের নেদারল্যান্ডসকে ২-১ গোলে হারায় জার্মানি। তার আগের বিশ্বকাপে (১৯৭০) ১০ গোল করে এক আসরে সর্বোচ্চ গোল করার কীর্তি করেন তিনি। যা এখনো ভাঙতে পারেননি কোনো ফুটবলার। ঐ বছরই প্রথম জার্মান ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি আর জিতেন মুলার।
জাতীয় দলের মতো ক্লাব ফুটবলে ছড়ি ঘুরিয়েছেন মুলার। ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে তার শুরুটা হয় ১৯৬৪ সালে। তখন জার্মান ফুটবলে ধুকছিল বাভারিয়ানরা, খেলছিল দ্বিতীয় বিভাগে। মুলারের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে তার স্থুলকায় শরীর দেখে বায়ার্ন কোচ জলাতকো কেজকোভস্কি বলেছিলেন, ‘এই ভারত্তোলককে নিয়ে আমি কী করব?’
এরপর আর প্রশ্ন তোলার সুযোগ দেননি মুলার। শক্তিশালী পা দিয়ে একের পর এক গোল করে একসময় দ্বিতীয় বিভাগে খেলা বায়ার্নকে টানা তিন বারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন করেন তিনি। একই সঙ্গে চার বার বুন্দেসলিগা ও ডিএফবি পোকাল কাপ জিতে বায়ার্ন। সেই সময়ের মুলারকে নিয়ে তার সতীর্থ কিংবদন্তি ফুটবলার ফ্রেঞ্জ বেকেনবাওয়ার বলেন, ‘বায়ার্ন যা কিছু হয়েছে, তা গার্ড মুলার ও তার গোলের কারণেই।’
বায়ার্নের হয়ে ৬০৭ ম্যাচে ৫৬৬ গোল করেন মুলার। এর মধ্যে ১৯৭২ সালে ৮৫ গোল করেন তিনি। যা ছিল এক বছরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। ৪০ বছর পর ২০১২ সালে ৯২ গোল করে সেটি ভাঙেন লিওনেল মেসি।
বায়ার্ন ছাড়ার পর তিন বছর যুক্তরাষ্ট্রের লিগে খেলেন মুলার। ১৯৮২ সালে অবসরে পর অবসাদে ভুগে মাদককে আপন করে নেন এই ফুটবলার। তারপর অবশ্য বায়ার্নের রিজার্ভ টিমের কোচ হয়ে ১৯৯৫ সালে আবারও ফুটবল জীবনে ফেরেন তিনি।