সব স্থলবন্দর দিয়ে পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানি সুবিধার দাবি

কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণে বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে বিজিএমইএর আহ্বান

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বেনাপোল বন্দরের পাশাপাশি অন্যান্য স্থলবন্দর, বিশেষ করে ভোমরা ও সোনামসজিদ বন্দরের মাধ্যমে বন্ড-সুবিধার আওতায় তুলা, সুতা, কাপড় এবং বস্ত্র ও পোশাক খাতের অন্যান্য কাঁচামাল আমদানির অনুমোদন দেওয়ার আহ্বান জানয়েছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। এছাড়া বর্তমানে শুধু চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কাঁচামাল আমদানির জন্য আংশিক শিপমেন্টের অনুমোদন রয়েছে। সব অনুমোদিত স্থলবন্দর দিয়ে আংশিক শিপমেন্টের অনুমোদন প্রদান করারও আহ্বান জানিয়েছে বিজিএমইএ।

সম্প্রতি স্থলবন্দর দিয়ে বস্ত্র ও পোশাক খাতের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিসংক্রান্ত কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণের জন্য বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি, এমপির কাছে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান এক পত্রে এই আহ্বান জানিয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত প্রায় একটি বছর আমাদের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাত সুতার মূল্য ও সরবরাহজনিত যে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে তা নজিরবিহীন। বিশ্ববাজারে তুলার পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে সহনীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সুতার দামের পার্থক্যের ফলে পোশাকশিল্প তার সক্ষমতা ধরে রাখতে পারছে না। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে বিগত দুই বছরে আমাদের প্রধান রপ্তানি গন্তব্য আমেরিকা ও ইউরোপে পরিবহন খরচ প্রায় ১০০ থেকে ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া মজুরি, বিদ্যুত্, গ্যাস, ব্যাংক চার্জ, ফ্রেইট চার্জ বৃদ্ধি ও অন্যান্য কারণে গত আট বছরে পোশাকশিল্পে উত্পাদন ব্যয় প্রায় ৩০ দশমিক ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অপর দিকে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পূর্ব থেকেই পোশাকের দরপতন শুরু হতে থাকে যা করোনার পরে তীব্র আকার ধারণ করে। গত অর্থবছরে আমাদের পোশাকের দরপতন হয়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। আর করোনা মহামারির কারণে সৃষ্ট প্রায় ৩১৮ কোটি ডলারের রপ্তানি ক্রয়াদেশ বাতিলের ধাক্কা কাটতে না কাটতেই কারখানাগুলো ডিসকাউন্ট ও ডেফার্ড পেমেন্টের চাপে পড়ে। অনেক ক্রেতা ও ব্রান্ড ক্রয়াদেশের বিপরীতে মূল্য পরিশোধ করেনি, দেউলিয়া হয়ে গেছে। অনেকে তাদের জাহাজীকৃত পণ্য অথবা স্টকের মূল্য পায়নি, কিন্তু বাধ্য হয়ে কাঁচামাল বাবদ খোলা ব্যাক টু ব্যাক এলসির দায় মিটাতে ফোর্সড লোনের শিকার হয়েছে। এ রকম একটি চতুর্মুখী চাপে শিল্পটি টিকে থাকার সংগ্রামে হিমশিম খাচ্ছে। তবে আশার বিষয় এই যে, করোনা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়ছে। ক্রেতারা আশাব্যঞ্জক ক্রয়াদেশ প্রদান করছেন। এই সময়টিতে আমরা আমাদের সার্বিক সক্ষমতা ও দক্ষতা ধরে রাখতে পারলে শিল্প অনেকাংশে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

বিজিএমইএ সভাপতি আরো উল্লেখ করেন, আমাদের ইয়ার্ন চাহিদার মধ্যে যেটুকু আমদানি করতে হয় তার প্রায় পুরোটাই বেনাপোলসহ স্থলবন্দরের মাধ্যমে হয়ে থাকে। আর স্থলবন্দরের মাধ্যমে তুলা, সুতা, কাপড় ও বন্ড সুবিধার আওতায় বস্ত্র ও পোশাক খাতের অন্যান্য কাঁচামাল আমদানিসংক্রান্ত বিধিনিষেধ থাকার ফলে আমরা আমাদের লিড টাইমের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারছি না। বিশেষ করে শুধু বেনাপোল বন্দরের মাধ্যমে বন্ড-সুবিধার আওতায় তুলা, সুতা, কাপড় ও অন্যান্য কাঁচামাল  আমদানির অনুমোদন রয়েছে এবং পার্শিয়াল শিপমেন্টের অনুমোদন নেই। ফলে বেনাপোল বন্দরে প্রায়ই আমদানি-রপ্তানিতে চাপ থাকে ও বিলম্বের ফলে শিল্প আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমতাবস্থায় শিল্পের বাণিজ্যিক ও উত্পাদন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এই সুপারিশগুলো করা হয়। এর মাধ্যমে একটি স্থলবন্দরের ওপর বিরাজমান চাপ কমে আসবে, পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে গতি আসবে, ফলে সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমানে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সুতার দামের পার্থক্যের পেছনে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত জটিলতা অনেকাংশে দায়ী। স্থানীয় বস্ত্রের জোগানের পাশাপাশি আমদানি সহজতর হলে আমাদের প্রাইস কম্পিটিটিভনেস বাড়বে, সেই সঙ্গে পণ্যের গুণগত মানেও পরিবর্তন আসবে। বিশাল আমদানি চাহিদার সিংহভাগই পূরণ হয় ভারত ও চীন থেকে আমদানির মাধ্যমে। অতিসম্প্রতি করোনার বিস্তারের ফলে চীনের বেশ কিছু বন্দরের কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে, এর ফলে আমাদের কাঁচামাল সরবরাহে চাপ বাড়তে পারে। স্থলবন্দরগুলো ব্যাপকভাবে কার্যকর করা হলে এরকম ঝুঁকি কাটিয়ে ওঠা সহজতর হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।