শোকে শ্রদ্ধায় জাতির পিতাকে স্মরণ

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার শোককে শক্তিতে পরিণত করে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন শত সহস্র কণ্ঠ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল রবিবার বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে এসেছিলেন বাংলার সাধারণ মানুষ। শোকাবহ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তারা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে। পাশাপাশি টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতেও মানুষের ঢল নামে। অগণিত মানুষের ভিড় জমে যায় বনানী কবরস্থানে, বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য।

ভোর থেকেই স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষ জমায়েত হতে থাকেন। বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক, সামাজিক  ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ নানা আয়োজনে স্মরণ করে শোকের এই দিনকে। মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। বাদ জোহর দেশের বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এছাড়া মন্দির, গির্জা, প্যাগোডায় সুবিধামতো সময়ে প্রার্থনা করা হয়।

৩২ নম্বরে মানুষের ঢল :সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি। সকাল সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বিউগলে করুণ         সুর বাজানো হয় এবং সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকশ দল জাতির পিতাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের শহিদদের স্মরণে এ সময় বিশেষ মোনাজাতও অনুষ্ঠিত হয়।

পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়িটিতে প্রবেশ করে সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন, যেখানে ৪৬ বছর আগে ইতিহাসের এক বর্বরতম হত্যাযজ্ঞ সাধিত হয় এবং পরে বাড়িটিকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী সেখান থেকে বনানী কবরস্থানে যান, যেখানে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা, তার ভাই শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেলসহ ১৫ আগস্টের শহিদরা শায়িত রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের কবরে গোলাপের পাপড়ি ছড়িয়ে দেন। সেখানে তিনি ফাতেহা পাঠ করেন এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা ও দোয়া করেন।

ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এর পরই বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ৩২ নম্বর সড়কটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। অগণিত মানুষের পদচারণে ভরে ওঠে সড়ক। হাতে কালো ব্যানার ও বুকে কালো ব্যাজ পরিধান করে নারী-পুরুষ, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, শিশু-কিশোরসহ সর্বস্তরের মানুষ। সবাই পরম শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে জাতির পিতাকে স্মরণ করেন।

সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মির্জা আজম ও এস এম কামাল হোসেন, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল প্রমুখ। এছাড়া শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে একের পর এক শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, তাঁতী লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদ, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, শিশু একাডেমি, বাংলাদেশ বেতার, সরকারি কর্ম কমিশন-পিএসসি, শহিদ এম মনসুর আলী স্মৃতি সংসদ ও মোহাম্মদ নাসিম ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন-বিএমএ, বাংলাদেশ ফেন্সিং অ্যাসোসিয়েশন, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, শেখ রাসেল শিশু সংসদ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসহ বিভিন্ন দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সর্বস্তরের হাজারো মানুষ।

এদিকে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাতীয় প্রেসক্লাব, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুস্থ ও গরিব মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দরিদ্রদের মধ্যে খাবার বিতরণের ব্যবস্থা করে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো। এছাড়া জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে চিকিত্সা সেবা দেওয়া হয়।

জেপির শোক দিবস পালন :সকাল সাড়ে ৬টায় জাতীয় পার্টি-জেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সকল কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমতিকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৮টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডে দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। এসময় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা, সাবেক এমপি রুহুল আমিন, মির মোশারফ হোসেন মিরণ, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন রেণু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও দপ্তর সম্পাদক এম সালাহ উদ্দিন আহমেদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম তপন, কে এম মজিবুর রহমান মজনু, সহ-সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় যুব সংহতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের সিদ্দিকী আবু, ক্রীড়া সম্পাদক আলী আব্দু্ল্লাহ টিংকু, শিক্ষা ও ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক এবং জতীয় যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজ আলম, যুগ্ম প্রচার সম্পাদক মঞ্জুর হাবিব মঞ্জু, যুগ্ম-পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাদেকুর রহমান, জাতীয় যুব সংহতির সহ-সভাপতি জেড সেলিম, মো. শামীম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া সকাল সাড়ে ৯টায় বনানী কবরস্থানে বেগম মুজিবসহ ১৫ আগস্ট নিহত সকল শহিদ এবং সকাল সাড়ে ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। বাদ যোহর বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

সুপ্রিম কোর্ট জাজেস কমিটির শ্রদ্ধা :বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদ্?যাপনবিষয়ক বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট জাজেস কমিটি গতকাল রবিবার সুপ্রিম কোর্ট জাজেস লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এ সময় আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম, বিচারপতি জে বি এম হাসান, বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

নৌবাহিনীর মানবিক সহায়তা :জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর খিলক্ষেতের কুর্মিটোলা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে ৪০০ গরিব, দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসহায়তা সহায়তা প্রদান করেছে নৌবাহিনী। এসময় প্রতিটি পরিবারকে চাল, ডাল, তেল, আটা ও চিনিসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী প্রদান করা হয়। এছাড়া মোংলা, বাগেরহাটের ডাংমারি খাল, খুলনার চালনা এলাকা এবং জেলা সদরের এতিমখানাগুলোতেও  খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের রক্তদান কর্মসূচি :প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বিজয় সরণিস্থ বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শেরেবাংলানগরস্থ গণভবন কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করে। পরে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী নৌপরিবহন অধিদপ্তরে ‘মুজিব কর্নার’-এর উদ্বোধন করেন। পরে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে বিআইডব্লিউটিএর উদ্যোগে নৌযান শ্রমিকদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

দুই হাজার মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ : শহিদ এম মনসুর আলী স্মৃতি সংসদ ও মোহাম্মদ নাসিম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রাজধানীর সোবহানবাগ এলাকায় দুই হাজার মানুষের মাঝে কাঙালি ভোজ বিতরণ করা হয়। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের সহধর্মিণী লায়লা আরজুমান্দ, বড় ছেলে তানভীর শাকিল জয় এমপি, মেজো ছেলে তমাল মনসুর ও ছোট ছেলে তন্ময় মনসুর।

বিএমএর মিলাদ মাহফিল :বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বাদ আসর বিএমএ ভবনে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

এদিকে ছাত্রলীগের উদ্যোগে বাদ যোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় জগন্নাথ হল উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়। দুপুরে মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হয়।