শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে দুই বিকল্প নিয়ে চিন্তাভাবনা

করোনা সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে না এলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খোলার পরামর্শ কোভিড-সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির। বর্তমানে করোনা সংক্রমণ ২০ শতাংশ। কিছুদিন আগেও এ হার ছিল ৩০ শতাংশ। কবে সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে নামবে তা বলা যাচ্ছে না। তাই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কীভাবে খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আমরা কতদিন এ জন্য অপেক্ষা করব।  মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে আমরা দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছি। একটি হলো করোনা সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে আসা অথবা সব শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে ভ্যাকসিন দেওয়া।

যতই দিন যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষেত্রে বিভিন্ন মহলের চাপ বাড়ছে। শুধু অভিভাবক ও শিক্ষক নয়, শিক্ষা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনেস্কো এবং ইউনিসেফও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। অভিভাবক ও শিক্ষকরা বলছেন, সবকিছু চালু থাকলেও কেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। আর ইউনেস্কো এবং ইউনিসেফ বলেছে, সংক্রমণ কবে শূন্যের কোঠায় নামবে, সেজন্য আর অপেক্ষায় থাকা যায় না। আর সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া               পর্যন্ত অপেক্ষাও করা যায় না। যদিও অভিভাবকদের বড় একটি অংশ শিশু সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর ক্ষেত্রে ঝুঁকির বিষয়টিও বিবেচনায় আনার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করেছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে ৩ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থীকে এক ডোজ ভ্যাকিসিন দেওয়া শেষ হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আশা প্রকাশ করেছেন, খুব শিগিগরই এসব ভ্যাকসিন দেওয়া শেষ হবে।

তবে সবচেয়ে বেশি সংকট তৈরি হবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে। প্রায় ৩৯ লাখ শিক্ষার্থী এই স্তরে পড়াশোনা করে। করোনার সংক্রমণ না কমলে ৩৯ লাখ শিক্ষার্থীকে দুই ডোজ ভ্যাকসিন দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে আরো অনেক সময় লাগবে। এ ক্ষেত্রে টিকার প্রাপ্যতা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেছেন, গত বছর অক্টোবর-নভেম্বরে যখন করোনা সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে ছিল তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সুযোগ ছিল। গ্রামে করোনা সংক্রমণের হার নগণ্য ছিল। তখন আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে পারতাম। খুলে দিলে যে লাভটি হতো—আমরা অভিজ্ঞতাটি সঞ্চয় করতে পারতাম। সব শিক্ষককে টিকার আওতায় আনা জরুরি। সেটি যদি হয়ে থাকে তাহলে নভেম্বর-ডিসেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া যেতে পারে। 

আগামী নভেম্বরে এসএসসি ও ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। এই দুই পরীক্ষায় প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেবে। এই ৪০ লাখ শিক্ষার্থীকে ভ্যাকসিন দিয়ে পরীক্ষায় বসানোরও পরিকল্পনা রয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে গতকাল রবিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এখন মহামারির যে পরিস্থিতি, তাতে কবে নাগাদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে তা বলার সুযোগ নেই। তবে সংক্রমণের হার একেবারেই কমে গেলে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একসঙ্গে খুলে দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। দীপু মনি বলেন, ‘বিশেষজ্ঞরা বলেন শনাক্তের হার ৫ শতাংশের কম হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া যায়। আমরা এটি মাথায় রাখছি।’ তিনি বলেন, ‘এখন যেহেতু ব্যাপক হারে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে, সেক্ষেত্রে ৫ শতাংশ না হলেও সংক্রমণ যথেষ্ট পরিমাণ নিচে নামলে হয়তো শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে নিয়ে আসতে পারব।’

শিক্ষামন্ত্রী জানান, এখন দুইটা বিষয়—সংক্রমণের হার কমে যাওয়া আর সবাইকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা। এ দুটো যখন হবে, তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ব্যাপারে ভাবা যাবে।