নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। এসব অনলাইন আয়োজনে কথা, কবিতা ও গানের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতিকে স্মরণ করা হয়।
বাংলা একাডেমি :বেলা ৩টায় বাংলা একাডেমির ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ‘শোক ও শক্তির মাস আগস্ট ২০২১’ শিরোনামে আলোচনা, বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত কবিতাপাঠ ও আবৃত্তি অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও বঙ্গবন্ধুর মুক্তিসংগ্রাম’ শীর্ষক নিবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাবন্ধিক-গবেষক মফিদুল হক। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অধ্যাপক আবু মো. দেলোয়ার হোসেন। কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ পর্বে স্বরচিত ‘বজ্রকণ্ঠ থেমে গেলে’ শীর্ষক কবিতা পাঠ করেন কবি আসাদ চৌধুরী। কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা রচিত ‘পনেরো আগস্ট’ কবিতার আবৃত্তি করেন রূপা চক্রবর্তী এবং কবি আমিনুর রহমান রচিত ‘রাসেলের সমান বয়সী’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন হাসান আরিফ। ‘শোনো একটি মুজিবরের থেকে’ শীর্ষক সংগীত পরিবেশন করেন স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের শিল্পী তিমির নন্দী। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। শিল্পকলা একাডেমি :সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শিল্পকলা একাডেমির ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচারিত হয় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন একাডেমির সচিব মো. আছাদুজ্জামান। স্বাগত বক্তৃতা করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক ডা. নুজহাত চৌধুরী। মুখ্য আলোচক ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। আরো বক্তৃতা করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর। সভাপতিত্ব করেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।
আলোচনার পর সম্প্রচারিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই পর্বের শুরুতেই বাঁশিতে করুণ সুর তুলে আয়োজনে শোকের আবহ ফুটিয়ে তোলেন মো. মনিরুজ্জামান। কবিতা পাঠ করেন নির্মলেন্দু গুণ, জাফর ওয়াজেদ, ড. মুহম্মদ সামাদ, মুহাম্মদ নুরুল হুদা, তারিক সুজাত, রুবী রহমান ও অসীম সাহা। একক সংগীত পরিবেশন করেন আবু বকর সিদ্দিক, অনুপমা মুক্তি, মিতালি মুখার্জি, ইয়াসমীন আলী, নকীব খান, তিমির নন্দী, সাজেদ আকবর, হৈমন্তী রক্ষিত ও শিশুশিল্পী সাবরীনা জাহান সেজুতী। দলীয় সংগীত পরিবেশন করে ঢাকা সাংস্কৃতিক দল।
যদি রাত পোহালে শোনা যেত, পাষান খুনিরে, কেউ পারেনি সারা বাংলা এক মিছিলে, আমি ধন্য হয়েছি আমি পূর্ণ হয়েছি, তুমি বিনে রে মুজিব, তুমি বাংলার ধ্রুবতারা, যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা গৌরী যমুনা বহমান ইত্যাদি গানে গানে অনলাইনের এই শোকের আয়োজনে বঙ্গবন্ধুকে মূর্ত করে তোলেন শিল্পীরা।
বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ :সকালে সংগঠনটির ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ‘বাঙালির গভীর শোকের ১৫ আগস্ট’ শিরোনামের অনুষ্ঠান। এতে আলোচক ছিলেন কলামিস্ট আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। সংগীত পরিবেশন করেন তপন মাহমুদ। সঞ্চালনায় ছিলেন বিশ্বজিত্ রায়।