পদ্মা সেতুর পিলারে বারবার আঘাত রোধে সে াত মোকাবিলায় কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর পিলারসমূহকে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে চলাচলকারী ফেরিগুলোর আঘাত থেকে রক্ষায় করণীয় নির্ধারণে রবিবার মাওয়াস্থ বিআইডব্লিউটিএ রেস্টহাউজে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ফেরি পরিচালনাকারী বিআইডব্লিউটিসি ছাড়াও বিআইডব্লিউটিএ, সেনাবাহিনী ও পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাগণ অংশ নেন।
সভায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, পদ্মা নদীতে চলমান বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ বৃদ্ধির কারণে মাওয়া অঞ্চলে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাবাজার থেকে শিমুলিয়াগামী ফেরিসমূহকে পদ্মা সেতু থেকে মাত্র ১.৩ কি.মি দূরত্বে হাজরা চ্যানেল দিয়ে বের হতে হয়। হাজরা চ্যানেল দিয়ে আনুমানিক ৩৪০ ডিগ্রি কোর্সে হেড রেখে বের হয়ে ফেরিগুলোকে পদ্মা সেতুর পিলারগুলো ৯০ ডিগ্রি কোর্সে অতিক্রম করতে হয়। বের হয়েই ফেরিকে তীব্র স্রোতের মুখে পড়তে হয়। তীব্র স্রোতের মধ্যে ৩৪০ ডিগ্রি থেকে ৯০ ডিগ্রি কোর্সে যাওয়ার জন্য তাকে ১১০ ডিগ্রি হেড ঘুরানোর প্রয়োজন হয়। সেতু থেকে ১.৩ কিলোমিটার দূরত্বে থেকে বিষয়টি অনেকটা দুুুরূহ কাজ। যার ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় সময়ই পিলারে ফেরির ধাক্কা লাগছে।
এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে আলোচনাসভায় ফেরিসমূহকে হাজরা চ্যানেল থেকে প্রায় ১.৭ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং সেতু থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে একটি লাইটেড বয়া স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ফেরিসমূহ হাজরা চ্যানেল থেকে বের হয়ে স্থাপিত বয়াকে টার্গেট করে বয়ার কাছাকাছি পৌঁছে সেতু অতিক্রম করার জন্য যাত্রা শুরু করবে যাতে স্রোত অ্যাডজাস্ট করে হেডিংয়ে ব্যালেন্স রাখা যায়।
নেভিগেশন স্প্যান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সেতুর প্রায় ১ কিলোমিটার আপে ডুবোচর থাকায় ৩ থেকে ৭ নম্বর পিয়ার ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় সেগুলো বিবেচনা না করার পক্ষে মতামত পাওয়া যায়। ৮ নম্বর পিলারের সোজা একটি স্টিল স্পাড থাকায় ঝুঁকি বিবেচনায় ৭-৮ এবং ৮-৯ পিলারসমূহ বিবেচনার বাইরে রাখা হয়। ১০ নম্বর পিলারে ইতিপূর্বে দুইবার আঘাত লাগার প্রেক্ষিতে ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ৯-১০ এবং ১০-১১ স্প্যানও বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। ১১ থেকে ২২ নম্বর পিলারসমূহ মধ্যবর্তী স্থান নেভিগেশন যোগ্য। তবে দক্ষিণ দিকের স্প্যানসমূহে স্রোতের তীব্রতা বেশি থাকায় আপাতত ১২-১৩ নম্বর স্প্যান দিয়ে আপ থেকে ডাউনে নৌ-চলাচলের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তবে অবস্থার প্রেক্ষিতে প্রয়োজন হলে নির্ধারিত স্প্যানের দুই পাশের স্প্যানসমূহ অর্থাত্ ১১ থেকে ১২ এবং ১৩ থেকে ১৪ ব্যবহার করা যাবে। উল্লেখ্য, ১২-১৩ স্প্যানে স্রোতের গতিবেগ শনিবার ছিল প্রতি ঘণ্টায় ৭.৪ কিলোমিটার এবং গতকাল রবিবার গতিবেগ ছিল প্রতি ঘণ্টায় ৭.৮ কিলোমিটার।
শিমুলিয়া থেকে বাংলাবাজারগামী ফেরিসমূহ স্রোতের প্রতিকূলে যাবে বিধায় সেগুলো নিয়ন্ত্রণহীন হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে বিধায় তারা ৬-৭ নম্বর স্প্যান ব্যবহার করবেন তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী দুই পাশের দুটি স্প্যানও ব্যবহার করা যাবে।
সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১২ ও ১৩ স্প্যান হতে সরাসরি ৩ কিলোমিটার উজানে (পশ্চিমে) রবিবার দুপুরে কর্তৃপক্ষের বয়টেন্ডার ভেসেল নিহারিকার মাধ্যমে একটি লাল লাইটেড বয়া স্থাপন করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় বিআইডব্লিউটিসির পক্ষ থেকে ছিলেন সংস্থার চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. তাজুল ইসলাম, পরিচালক (বাণিজ্যিক) এস এম আশিকুজ্জামান, ডিজিএম (মেরিন) মো. আব্দুস সোবহান, এজিএম (মেরিন) আহাম্মদ আলী এবং বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে ছিলেন পরিচালক (নৌ-সওপ) মো. শাহজাহান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. ছাইদুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মো. মজনু মিয়া, নির্বাহী প্রকৌশলী (ড্রেজিং) এনামুল হক মোল্লা, উপপরিচালক (নৌ-সওপ) মো. সবুর খান, উপপরিচালক (নৌ-সওপ) মো. ওবায়দুল করিম খান, সহকারী পরিচালক (হাইড্রোগ্রাফি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পরিচালক (নৌ-নিট্রা) মো. শাহাদাত হোসেন, সহকারী প্রকৌশলী (ড্রেজিং) হাছান আহমেদ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষে ছিলেন ২৭ আরই ব্যাটালিয়ন অপারেশন অফিসার মেজর শেখ রিফাত ইফতেখার, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মধ্যে ছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদির, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির ও সিইজিআইএসের পক্ষে ছিলেন মরফোলজি ডিভিশনের সিনিয়র স্পেশালিস্ট মো. কামাল হোসেন।