‘ইউটিউবকে চিন্তা করে টিভি কন্টেন্ট তৈরি করা উচিত না’

উপস্থাপকের চেয়ারে নারীদের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো হলেও নির্মাণে এই সংখ্যাটা অনেকটাই অপ্রতুল। সেই জায়গায় নিজের ভিন্ন এক অবস্থান তৈরি করেছেন উপস্থাপক ও নির্মাতা রুমানা হক। উপস্থাপনার পাশাপাশি নির্মানেও রাখছেন সফল পদচারণা। নির্মাণ ও উপস্থাপনার নানা দিক নিয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

 

 

বর্তমান কাজ প্রসঙ্গে জানতে চাই—

নিয়মিত প্রচার হচ্ছে আমার পরিচালনা ও উপস্থাপনায় সিনেমার খবর নিয়ে অনুষ্ঠান ‘শোবিজ ওয়ার্ল্ড’ এবং জনপ্রিয় শিল্পীদের নিয়ে আমার পরিচালনায় অনুষ্ঠান ‘মিউজিক লাউঞ্চ’। পাশাপাশি বিভিন্ন বিশেষ দিবসে নানা ধরনের অনুষ্ঠান আমি নির্মাণ করি। এছাড়া ১৪টি অনুষ্ঠান দেখা শোনা করি।

দেশের প্রেক্ষাপটে একজন নারী নির্মাতার ক্যারিয়ারের পথ কতটা মসৃণ?

আমি স্কুলজীবন থেকেই  এটিএন বাংলার সঙ্গে জড়িত আছি। সেই সময় থেকে এখন অবধি কোনোরকম প্রতিকূলতার সম্মুখীন হইনি। অফিসের সবাই অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা করেছেন। শুরুতে উপস্থাপনা করলেও পরবর্তীতে উপস্থাপনা ও নির্মাণ, দুটোই করছি।

তাহলে কী বলতে চাচ্ছেন নির্মাণ মাধ্যমটি নারীদের অনুকূলে রয়েছে?

হ্যাঁ, অবশ্যই অনুকূলে রয়েছে। চাইলেই যে কেউ স্বাধীনভাবে নিজের চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশ এখানে করতে পারে। আমি একটি চ্যানেলে কাজ করেও কিন্তু অনেক স্বাধীনভাবে কাজ করছি। তবে আমার মনে হয়, যদি কেউ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজটি করে তাহলে নিশ্চয় সে ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

আপনি উপস্থাপনা ও নির্মাণ একইসঙ্গে করছেন। দুটো ভিন্ন ঘরানার কাজ একসঙ্গে করতে গিয়ে প্রতিবন্ধকতা বা মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে না?

না, আমার এই সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হতে হয় না। কারণ আমি অনেক পরিকল্পনা কাজজগুলো করি। যেদিন উপস্থাপনা করি সেদিন অন্য কাজ করি না। আবার যেদিন এডিটিং করি সেদিন শুটিং রাখি না। এই ভাগ করে নেওয়ার কারণে দুটি কাজকে গুলিয়ে ফেলার সুযোগ থাকে না।

কাজ না জানা অনেককেই উপস্থাপনার চেয়ারে দেখা যায়। এতে কাজের মান কতটা বজায় থাকছে বলে মনে করেন?

কাজ জানে না, ঠিকমতো কথাও বলতে পারে না, অনুষ্ঠান সম্পর্কে ধারণা নেই, শুধু গ্লামার আছে, এমন কাউকে আসলে উপস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি চেয়ারে বসিয়ে দেওয়া ঠিক হচ্ছে না। নতুনদের সুযোগ দিতে হবে, তবে মান কমিয়ে নয়। বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল রেখে যাকে প্রয়োজন তাকে নিতে হবে।

একই ফর্মেটে শুধু দেশের চ্যানেলগুলোই অনুষ্ঠান প্রচার করে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে আমরা পিছিয়ে কেন?

দেখুন, এখন কিন্তু এই চর্চা থেকে আমরা দূরে সরে এসেছি। নানা ধরনের অনুষ্ঠান এখন হচ্ছে। আমাদের দেশে সংগীতকে নির্ভর করে বেশিরভাগ অনুষ্ঠান করা হয়, কিন্তু বাইরের দেশে রিয়েলিটি শো বেশি হয়। তাদের বাজেট অনেক বেশি থাকে, কিন্তু আমাদের দেশে বাজেট অনেক কম হওয়ায় এ ধরনের কাজও কম হয়।

প্রচলিত জনপ্রিয়দের নিয়ে অনুষ্ঠান নির্মাণ নিয়ে কী বলবেন?

নতুন অনেককে নিয়ে কাজ করতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। নতুনদের বেশিরভাগই কমিটমেন্ট ঠিক রাখে না। ফলে তাদের নিয়ে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই যাদের কাজের প্রতি নিষ্ঠা আছে, সময়ের দাম দেয়, কাজ করতে চায় তাদেরই ঘুরে ফিরে অনুষ্ঠানে নেওয়া হয়।

এখন ইউটিউব নির্ভর টিভি কন্টেন্ট তৈরি হচ্ছে। এতে টিভির ভবিষ্যত্ কোনদিকে যাচ্ছে?

ইউটিউব নির্ভর নয়, আসলে টিভিতে দেখার পর মানুষ ইউটিউবেও কন্টেন্টটি দেখতে চায়। পাশাপাশি কন্টেন্টটি স্টোর করে রাখার একটি মাধ্যমও ইউটিউব। তবে ইউটিউবকে চিন্তা করে টিভি কন্টেন্ট তৈরি করা উচিত না।