ফি কমানোর দাবি
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি কলেজে হাজারো শিক্ষার্থী রয়েছে। অথচ মুষ্টিমেয় কিছু শিক্ষার্থী গত কয়েক দিন ধরে সড়ক অবরোধ এবং বিক্ষোভ করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন
বরিশাল অফিস
স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের ফরম পূরণে সেমিস্টার ফিসহ অন্যান্য ফি কমানোর দাবিতে বরিশাল নগরীর সদর রোড অবরোধ করেছেন দুটি কলেজের শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ সদর রোড অবরোধ করায় পুরো নগরীতে সৃষ্টি হয় যানজটের।
গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর সরকারি মহিলা কলেজ এবং সিটি কলেজের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সামনে মানববন্ধন করে। পরে মিছিল সহকারে সদর রোডে গিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন তারা। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করলেও এর পেছনে নেতৃত্ব দেয় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট।
সড়ক অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীরা বলেন, করোনার কারণে প্রায় ১৭ মাস ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। এ সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ক্লাসও হয়নি। অথচ হঠাত্ করে সন্মান দ্বিতীয় বর্ষের ফরম পূরণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কলেজ বন্ধ থাকলেও সেশন চার্জ, শিক্ষা সফর ফি, সেমিনার ফিসহ নানা ধরনের অযাচিত ফি আরোপ করে শিক্ষার্থীদের কাঁধে ফরম পূরণ বাবদ মোটা অঙ্কের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। করোনাকালে এত ফি পরিশোধ করা তাদের পক্ষে অসম্ভব। তারা শুধুমাত্র জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নির্ধারিত ফি ছাড়া অন্যান্য সব ফি মওকুফের দাবি জানান। অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন দিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল—বাসদের বরিশাল জেলা শাখার সদস্য সচিব ডা. মনিষা চক্রবর্ত্তী।
এদিকে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি কলেজে হাজারো শিক্ষার্থী রয়েছে। অথচ মুষ্টিমেয় কিছু শিক্ষার্থী গত কয়েক দিন ধরে সড়ক অবরোধ এবং বিক্ষোভ করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদিকে দুপুর দেড়টার দিকে কলেজ শিক্ষকরা দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।