হাসপাতালকে কেন্দ্র করে অ্যাম্বুলেন্সের মতো একটি জরুরি পরিবহন সেবাকে ঘিরে ‘অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের’ নিয়মিত নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনরা। আপনজনের লাশ বা মুমূর্ষু রোগী নিয়ে স্বজনের কঠিন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক কথা বলার সক্ষমতা থাকে না। এই কঠিন মুহূর্তের সুযোগ বুঝে তখন ইচ্ছেমতো ভাড়া চাপিয়ে দেয় মাইক্রোবাস ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটগুলো সংগঠিত ও সংঘবদ্ধ হওয়ায় তাদের কেউ কিছু বলার সাহস পায় না এবং বাইরের কোনো গাড়িও সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। লাশ বহনকারী বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও রোগী বহনকারী মাইক্রোবাস ব্যবসায়ীরা ভাড়া নিয়ে ক্রমান্বয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালকেন্দ্রিক জরুরি বিভাগের সামনে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকে অ্যাম্বুলেন্স। এছাড়াও হাসপাতালের মূল ফটক পর্যন্ত এসব গাড়ি অর্ধেক রাস্তা দখল করে রাখে! সেসব অ্যাম্বুলেন্সের অধিকাংশই ত্রুটিপূর্ণ ও ফিটনেস বিহীন। কোনো মৃতদেহ বা অসুস্থ রোগী নিয়ে হাসপাতাল থেকে স্বজনরা বের হওয়া মাত্রই তাদেরকে ঘিরে ধরে সিন্ডিকেট সদস্যরা এবং ইচ্ছেমতো ভাড়া হাঁকালে তারা (স্বজন) ভোগান্তির শিকার হন। এ ব্যাপারে হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়েও সন্দেহ থেকে যায়, যা বর্তমান সময়ের জন্য অমানবিক তো বটেই, মর্মান্তিক বিষয়ও। অ্যাম্বুলেন্সে নির্ধারিত ভাড়ার কোনো তালিকা নেই। নেই সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালাও। যে যেভাবে পারছে, রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স নামাচ্ছে। এই সেবায় সুনির্দিষ্ট একটি নীতিমালা থাকলে বাড়তি ভাড়া আদায়সহ রোগীর ভোগান্তি অনেকগুণ কমে যেত। অ্যাম্বুলেন্স বাণিজ্য, দালাল ও অসাধু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের হাত থেকে অ্যাম্বুলেন্স সেবা রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা অতীব জরুরি।
মুহাস্মদ নুর রায়হান চৌধুরী
পরিচালক, কোতোয়ালী ব্লাড ব্যাংক, চট্টগ্রাম