বঙ্গবন্ধুকন্যা বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের অবস্থান উঁচুতে নিয়ে গেছেন ---- আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান লক্ষণীয়ভাবে অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছেন। তার যোগ্য নেতৃত্বে কাজ করতে পেরে আমি গর্বিত এবং শেষ দিন পর্যন্ত জাতির প্রতি দায়িত্ব পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতির পিতার ৪৬তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের সদস্যরা নির্মমভাবে নিহত হন। দূতাবাসের কর্মকর্তারা বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের নিহত সদস্যবৃন্দের        বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু তার ব্যক্তিগত এবং বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলনের সময় ছাত্রনেতা হিসেবে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তা গোটা বিশ্ব প্রত্যক্ষ করছে।

অনুষ্ঠানে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তার অনুভূতি ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। বাংলাদেশের মতো একটি নব্য স্বাধীন দেশকে পরিচালিত করতে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর দৃঢ় নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশের বেশির ভাগ আইন, বিধি এবং প্রতিষ্ঠান নির্মাণের কাজটি বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্র পরিচালনার চার বছরেরও কম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছিল নতুবা সূচনা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশ দূতাবাসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় সংগীতের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রদূত এম সহিদুল ইসলাম কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিতকরণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, মোহাম্মদ শফিউল আলম এবং দূতাবাসের কর্মকর্তাদের নিয়ে রাষ্ট্রদূত জাতির পিতার আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন। এরপর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণীসমূহ পাঠ করা হয়।

রাষ্ট্রদূতের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে আলোচনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতির উল্লেখ করে তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সমুন্নত রাখার এবং জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করার মাধ্যমে শোককে শক্তিতে রূপান্তরের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান শেষে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ১৫ আগস্টের সব শহিদ এবং মুক্তিযুদ্ধে শহিদ বীরদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে একটি বিশেষ প্রার্থনাও অনুষ্ঠিত হয়।