সোনার বাংলা গঠনের মজবুত ভিত বঙ্গবন্ধুর হাতেই তৈরি :অর্থমন্ত্রী

বাঙালির জীবনে শোকাবহ ও অভিশপ্ত মাস, বেদনা আর দুর্বিষহ স্মৃতির মাস আগস্ট। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সুবেহ সাদিকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার সময় যে বৃষ্টি ঝরছিল, তা যেন ছিল প্রকৃতিরই অশ্রুপাত। ভেজা বাতাস কেঁদেছে সমগ্র বাংলায়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হারানোর সেই দুঃসহ স্মৃতি এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে গোটা জাতি। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এফসিএ, এমপি গতকাল বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আয়োজিত স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক ভার্চুয়াল আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলার স্বায়ত্তশাসন থেকে স্বাধিকার, স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্তরণ এর সব কিছুর অগ্রভাগে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দুঃসময় ও হতাশার দেওয়াল ভেঙে শোষিত, বঞ্চিত বাঙালি জাতিকে তিনিই উপহার দেন একটি ঠিকানা লাল সবুজ পতাকা খচিত স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। যার নামকরণ তিনি নিজেই করেছিলেন। জাতিকে এ দুর্লভ উপহার দানের মাধ্যমে তিনি ভূষিত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব উপাধিতে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব থেকে পরিণত হন আমাদের জাতির পিতা হিসেবে।       অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের ক্ষতির পরিমাণ এবং ভয়াবহতা ছিল অবর্ণনীয়। পোড়ামাটি নীতি অবলম্বন করে পাকিস্তানিরা বাংলাদেশকে এক ভয়ংকর অবস্থার মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। বৈদেশিক মুদ্রার কোনো মজুত বাংলাদেশ ব্যাংকে ছিল না। বঙ্গবন্ধু যেদিন টেলিফোনে কথা বলতে শুরু করেন সেদিন ঢাকা জেলা থেকে মাত্র তিনটি জেলার সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা ছিল। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নির্দেশে আল-বদরের সদস্যরা ১৬ ডিসেম্বর সকালে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের সব টাকা রাস্তায় এনে আগুন দিয়ে ধ্বংস করে ফেলে। এমন একটি বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে বাংলাদেশকে দাঁড় করাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর নেওয়া যুগান্তকারী পদক্ষেপের সুফল বাংলাদেশের মানুষ আজও ভোগ করে চলেছে। যার ভিত্তিভূমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতি। সোনার বাংলা গঠনের মজবুত ভিত বঙ্গবন্ধুর হাতেই তৈরি।