জাতিসংঘে সরব হবে দিল্লি

তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিতে চায় না ভারত

কাবুলের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ দখল করে নিয়েছে তালেবান। পালিয়ে গেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। এই অবস্থায় সে দেশে তালেবানের নতুন সরকার গঠন কেবল সময়ের অপেক্ষা। গতকাল সোমবার পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। সূত্র জানায়, তার আগেই ভারত জাতিসংঘে নিজেদের অবস্থান খানিকটা স্পষ্ট করেছে। ভারত জানিয়েছে, তালেবান সরকার গড়লে তারা স্বীকৃতি দিয়ে চায় না। বস্তুত, জাতিসংঘের অধীনে থাকা ১৯৩টি দেশের মধ্যে অনেকেই ভারতের এই অবস্থান সমর্থন করেছে। খবর ডয়চে ভেলের।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, সোমবার থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের যুক্তরাষ্ট্র সফর শুরু হচ্ছে। নিরাপত্তা পরিষদে দুটি আলোচনাসভায় তার নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে। যার একটি ১৮ আগস্ট এবং অন্যটি ১৯ আগস্ট। ১৮ আগস্টের সভা সন্ত্রাসবাদ এবং শান্তি প্রকল্প নিয়ে হওয়ার কথা।     সন্ত্রাসবাদ কীভাবে আন্তর্জাতিক শান্তি বিঘ্নিত করছে তা নিয়ে দ্বিতীয় সভা হবে।

কূটনীতিকদের বক্তব্য, দুটি সভাতেই তালেবান প্রসঙ্গ সামনে আসবে। সেখানে আন্তর্জাতিক কূটনীতি কীভাবে তালেবান সরকারের বিষয়টিকে দেখবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। প্রথম থেকেই তালেবান নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত। আফগানিস্তানে তালেবান সরকার তৈরি হলে তার প্রভাব কীভাবে পড়বে, ভারত বরাবরই তা নিয়ে চিন্তিত। এর আগে আফগানিস্তানে তালেবান যখন সরকার গঠন করেছে, ভারত তা সমর্থন করেনি। বস্তুত, বিশ্বের বহু দেশই তা সমর্থন করেনি। কিন্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে কোন দেশ কী অবস্থান নেয়, এবারের জাতিসংঘের বৈঠকে তা অনেকটাই স্পষ্ট হবে।

দুটি বৈঠকের বাইরে একাধিক দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তালেবান নিয়ে বৈঠক হতে পারে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। কূটনীতিকদের বক্তব্য, আশরফ ঘানির আফগান প্রশাসনের সঙ্গে ভারতের অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল। ভারত সে দেশে বহু অর্থ বিনিয়োগ করেছে। এর আগে হামিদ কারজাইয়ের আমলেও ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের সুসম্পর্ক ছিল।

সূত্র জানায়, তালেবান কাবুল দখল করার পর ঘানি সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ভারতে পালিয়ে এসেছেন বা আসার চেষ্টা করছেন। ভিসার তালিকায় আরো বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম আছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে অনেকে ঘানির প্রশাসনে মন্ত্রী ছিলেন।

কূটনৈতিক মহলের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে জয়শঙ্করের যুক্তরাষ্ট্র সফর নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের বৈঠকের পর আফগানিস্তান নিয়ে ভারতের অবস্থান আরো স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে তার আগেই আফগানিস্তান থেকে ভারত সব কূটনীতিক এবং দূতাবাস কর্মীদের ফিরিয়ে নেবে।