পদত্যাগ করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ এমপির সমর্থন হারানোর পর গতকাল সোমবার পদত্যাগ করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে তার ১৭ মাসের শাসনামলের অবসান হলো। তবে মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান আবদুল্লাহ পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর মুহিউদ্দিন ইয়াসিনকেই অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে বলেছেন।
আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন জোটের কোন্দলের মুখে গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী ইয়াসিন ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা রাজার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার আগে সকালে তিনি মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠক করেন। পরে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ইয়াসিন বলেন, পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করি, শিগিগরই নতুন সরকার গঠিত হবে।
মুহিউদ্দিন ইয়াসিন মালয়েশিয়ায় সবচেয়ে কম সময় ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী। ২০২০ সালে রাজনৈতিক সংকটের মুখে পদত্যাগ করে আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার ড. মাহাথির মোহাম্মদ। এরপর নিজ দলের কিছু সদস্য এবং বিরোধীদের সমর্থন নিয়ে মুহিউদ্দিন প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তিনি রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে ছিলেন। এছাড়া করোনা মহামারি মোকাবিলায় তার সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ মালয়েশীয়দের। সাত মাসের জরুরি অবস্থা, জুনের পর লকডাউন দেওয়ার পরও সেখানে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে। এর মধ্যেই ক্ষমতাসীন জোটের সবচেয়ে বড় শরিক ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের (ইউএমএনও) কিছু এমপি সম্প্রতি সমর্থন উঠিয়ে নিলে চাপে পড়েন তিনি।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই পদত্যাগের দাবি অগ্রাহ্য করে আসছিলেন মুহিউদ্দিন ইয়াসিন, সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটের মাধ্যমে নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দেবেন বলেও জানিয়েছিলেন। তবে গত শুক্রবার মুহিউদ্দিন ইয়াসিন স্বীকার করে নেন, পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন তার পক্ষে নেই।
খবরে বলা হয়েছে, মুহিউদ্দিন ইয়াসিনের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক সংকটের অবসান হচ্ছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এর মধ্যেই রাজনৈতিক নেতারা শীর্ষ এই পদ পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন।