বাঘ দম্পতি টগর-বেলীর ঘরে এলো যমজ সন্তান দুর্জয় ও অবন্তিকা

একসঙ্গে এত দর্শনার্থী দেখে ভয় পাওয়া তো দূরের কথা কিছুটা এগিয়ে এসে খাঁচার একদম গ্রিল ঘেঁষে দাঁড়াল দুজন। তারপর বাঘের বাচ্চা দুটি খেলতে শুরু করল। একবার একজন অন্যজনের ঘাড়ে ওঠে তো আরেকবার অন্যজন ওঠে। এর মধ্যেই দৌড়ে গিয়ে তারা পাশে রাখা মাংসের টুকরো মুখে দেয়।

যমজ ভাইবোন এই দুই বাঘ শাবক দুর্জয় ও অবন্তিকা জাতীয় চিড়িয়াখানার নতুন অতিথি। বাঘ দম্পতি টগর-বেলীর সংসারেও নতুন অতিথি ওরা। দুর্জয়-অবন্তিকার মধ্য দিয়েই এই বাঘ দম্পতি প্রথমবারের মতো বাবা-মা হয়েছেন। গতকাল দুর্জয় ও অবন্তিকা যখন খেলছিল, তখন আশপাশ দিয়েই ঘোরাফেরা করছিল তাদের মা বেলী। অবশ্য বাবা টগরকে এ সময় পাশের একটি ঘরে রাখা হয়েছিল।

চলতি বছরের ২৬ মে দুর্জয় ও অবন্তিকার জন্ম হলেও গতকাল সোমবার প্রথমবারের মতো চিড়িয়াখানার খাঁচায় তাদের উন্মুক্ত করা হয়। এর আগে চিড়িয়াখানা প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের নামকরণ করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

ছবি: আব্দুল গনি। 

তিনি বলেন, করোনাকালে নির্বিঘ্ন পরিবেশ পেয়ে পশু-পাখির প্রজনন বেড়েছে। চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকায় দর্শনার্থীদের হৈ-হুল্লোড় ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশে বাচ্চা দিয়েছে বাঘসহ বেশকিছু প্রাণী। তিনি বলেন, মানুষের ভিড় থাকলে পশু-পাখিদের এমন উচ্ছ্বাস দেখা যায় না। সুনসান নীরবতা আর স্নিগ্ধ পরিবেশে ভিন্ন ভিন্ন রূপ-বৈচিত্র্যের প্রাণীগুলো রয়েছে বেশ ফুরফুরে মেজাজে।

জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, করোনাকালে চিড়িয়াখানার ভেতরের পরিবেশ অনেকটাই বদলে গেছে। খাঁচাবন্দি পশু-পাখির জন্য এই পরিবেশ বেশ উপভোগ্য। এখন কোলাহলমুক্ত পরিবেশে পশু-পাখিদের প্রজনন ক্ষমতা বেড়েছে।

১৬টি বক অবমুক্ত করলেন মন্ত্রী

জাতীয় চিড়িয়াখানায় ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত হওয়ায় গতকাল ১৬টি বক অবমুক্ত করেন মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। এ সময় তিনি বলেন, জাতীয় চিড়িয়াখানাকে মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে আধুনিক ও বিশ্বমানে রূপান্তর করা হবে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডের আদলে জাতীয় চিড়িয়াখানাকে গড়ে তোলা হবে। এ লক্ষ্যে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। এ কাজে সিঙ্গাপুরের কনসালট্যান্ট নিয়োগ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, চিড়িয়াখানার জন্য আমরা আইন প্রণয়ন করছি। এরই মধ্যে চিড়িয়াখানা আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন হয়েছে। আইন ও বিধি-বিধানের আওতায় বাংলাদেশের চিড়িয়াখানা পরিচালিত হবে।

চিড়িয়াখানা খুলছে ১৯ আগস্ট

স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী ১৯ আগস্ট থেকে খুলছে মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. আব্দুল লতিফ জানান, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামী ১৯ আগস্ট সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চিড়িয়াখানা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

ইত্তেফাক/এএএম