ঢাকা ওয়াসার পানির বিল

ওয়াসার পানির বিল বেড়েই চলেছে। ডিসেম্বর ২০১৭-তে পানির ইউনিট (এক হাজার লিটার) প্রতি মূল্য ছিল ১০ টাকা। ঐ সময় ঠিক করা হয়েছিল পানির বিল একবারে বেশি না বাড়িয়ে প্রতি ৬ মাস অন্তর ৫ শতাংশ অর্থাত্ ৫০ পয়সা হারে বাড়ানো হবে, যাতে গ্রাহকের ওপর বিলের চাপ সহনীয় থাকে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। জানুয়ারি ও জুলাই, ২০১৮-তে ৫ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে মূল্য বাড়ানো হয়। এর পর ১৪ মাস পরে সেপ্টেম্বর ২০১৯-এ পানির মূল্য ১১ টাকা ২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা ৫৭ পয়সা নির্ধারণ করা হলো। এর ৭ মাস পর হঠাত্ করে এপ্রিল ২০২০-এ একলাফে ২৫ শতাংশ মূল্য বাড়িয়ে ইউনিটপ্রতি করা হলো ১৪ টাকা ৪৬ পয়সা। এর কারণ যদি ধরে নেই যে আগেরবার ১৪ মাস পর মূল্য বৃদ্ধির ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য এটা করা হয়েছে, তাহলেও হিসাব মিলছে না। কারণ ১৪ যোগ ৭ অর্থাত্ ২১ মাসে ৩০ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি কোনো হিসাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এরপর সম্ভবত করোনাকালে কোনো মূল্য না বাড়িয়ে জুলাইয়ে এসে ৫ শতাংশ মূল্য বাড়ানো হয়েছে। ফলে গত সাড়ে ৩ বছরে নিট মূল্য ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ইউনিট প্রতি মূল্য ১৫ টাকা ১৮ পয়সা দাঁড়িয়েছে, যা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৩ টাকা ৫০ পয়সা হওয়ার কথা ছিল।

যে প্রক্রিয়ায়ই হোক, ওয়াসার এই ক্রমাগত মূল্য বৃদ্ধি গ্রহণযোগ্য নয়। পানি কোনো আমদানি পণ্য নয় এবং  এর উত্পাদন ও সরবরাহ ব্যয় সাড়ে ৩ বছরে এতটা বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা নাই। তাছাড়া বিদ্যুত্ ও গ্যাসের ক্ষেত্রে সরকারের  ভ্যাট বা ট্যাক্স ৫ শতাংশ হলেও পানির বিলে ১৫ শতাংশ হওয়ার কারণও বোধগম্য নয়। এ অবস্থায়, ঢাকা ওয়াসার পানির মূল্য এই জুলাইয়ে ইউনিটপ্রতি ১২ টাকা এবং ভ্যাট বা ট্যাক্স ৫ শতাংশ নির্ধারণের জন্য ঢাকা ওয়াসা, সরকার এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে বিনীত আবেদন জানাচ্ছি। পানি যেহেতু নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য, সেহেতু এর মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি দেখার জন্য কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ওয়াহিদুল ইসলাম আখন্দ, ৫৭০/১-বি, সেনপাড়া-পর্বতা, ঢাকা ১২১৬