আফগানরা লড়াই করেনি, সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সঠিক :বাইডেন

আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ২০ বছর পর আবারও তালেবান। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার আগেই তালেবান যোদ্ধারা দেশটির ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন ব্যাপক সমালোচনা চলছে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মনে করেন, সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি সঠিক। তার দাবি, মার্কিন সেনারা এমন একটি যুদ্ধে অংশ নিয়ে মারা যেতে পারে না, নেওয়া উচিতও না, যেখানে আফগান সৈন্যরা নিজেরাই লড়াই করতে অনিচ্ছুক।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ১১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ারে হামলার ২০ বছর পূর্তির দিনটির আগেই আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের জন্য গত এপ্রিলে নির্দেশ দিয়েছিলেন বাইডেন। সেনা প্রত্যাহার নিয়ে সমালোচনার জবাব দিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের সেখান থেকে আসার ব্যাপারে আসলেই কখনো কোনো আদর্শ সময় ছিল না। ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট প্রশ্ন তুলেছেন, সেখানে আর কত আমেরিকানকে জীবন দিতে হবে? তালেবান ক্ষমতা নেওয়ায় আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর প্রায় ২০ বছরের উপস্থিতির অবসান ঘটেছে। প্রায় এক মাস আগে তালেবানের অভিযান শুরু হওয়ার পর কাবুল ছিল সর্বশেষ শহর, যেটি তাদের নিয়ন্ত্রণে গিয়েছে। সর্বশেষ কয়েকদিনে যেভাবে তারা দ্রুত একের পর এক এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, তা অনেক পর্যবেক্ষককে বিস্মিত করেছে।

রিপাবলিকান সিনেট নেতা মিচ ম্যাককনেল একটি টুইট বার্তায় লিখেছেন, আফগানিস্তানে আমরা যা দেখছি, তা চরম একটা বিপর্যয়। বাইডেন প্রশাসনের এভাবে পিছু হটায় যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদায় একটা ক্ষত থেকে যাবে। বাইডেন তার বক্তৃতায় বলেন, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের মিশন কখনোই দেশ গঠন হওয়া উচিত ছিল না। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে যখন তিনি ভাইস-প্রেসিডেন্ট ছিলেন, ২০০৯ সালে তিনি আফগানিস্তানে নতুন সেনা মোতায়েনের বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, এই বছরের মে মাসের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে তালেবানের সঙ্গে আলোচনা সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ই শুরু হয়েছিল।

বাইডেন জানান, তিনি হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ প্রেসিডেন্ট যিনি দেশটির দীর্ঘতম লড়াই চালিয়ে গেছেন, কিন্তু পঞ্চম প্রেসিডেন্টের কাঁধে তিনি সেটা দিতে চান না। আফগানিস্তানে আরো কিছুটা সময় দিলে বিশাল কোনো পরিবর্তন আসবে, এমন দাবি করে মার্কিনিদের বিভ্রান্ত করতে চাই না।

তবে গত মাসেই তিনি সাংবাদিকদের কাছে মন্তব্য করেছিলেন যে, তালেবান পুনরায় আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে, সেটার সম্ভাবনা খুবই কম। অবশ্য সোমবার বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, আমরা যেভাবে ধারণা করেছিলাম, তার চেয়ে খুব দ্রুত ঘটনাগুলো ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রে একটি মতামত জরিপে দেখা গেছে যে, বেশির ভাগ মার্কিন আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার সমর্থন করছেন।

যদিও অনেকে এই প্রত্যাহারকে ১৯৭৫ সালে ভিয়েতনামের সায়গন থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। সেই সময় জো বাইডেন ছিলেন একজন কম বয়সি সিনেটর।

এদিকে আফগান শরণার্থীদের জন্য ৫০ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাইডেন। হোয়াইট হাউজ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আফগানিস্তান পরিস্থিতির কারণে শরণার্থী, যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির শিকার বা ঝুঁকিতে থাকা অন্য ব্যক্তিদের অভিবাসন ও সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি শরণার্থী তহবিল থেকে বরাদ্দ দিয়েছেন বাইডেন। এই তহবিল আন্তর্জাতিক সংস্থা, দাতব্য প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর ও এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে ব্যবহার করা হবে।