উচ্চ আদালতে বন্ধ আগাম জামিনের দ্বার খুলল। আগামী রবিবার থেকে হাইকোর্টের ফৌজদারি মোশন বেঞ্চসমূহে এই জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারঘোষিত কঠোর লকডাউন প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর আগাম জামিন শুনানি শুরুর সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন পূর্বক এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে আগাম জামিনের আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। দিনের কার্যদিবসে কখন এই শুনানি হবে তা নির্ধারণ করবেন সংশ্লিষ্ট মোশন বেঞ্চের বিচারপতিগণ। শারীরিক উপস্থিতিতে ফৌজদারি মোশন বেঞ্চগুলোতে এই জামিন শুনানি হবে।
গত মার্চ মাস থেকে দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়। পরবর্তীকালে এই ঢেউয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হন। মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়তে থাকে প্রতিদিন। করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে গত পহেলা জুলাই থেকে দেশে সরকার কঠোর লকডাউন আরোপ করে। লকডাউন কার্যকর করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নামানো হয় সেনাবাহিনী। ছিল মোবাইল কোর্টের নিয়মিত অভিযান। জরুরি সেবা ছাড়া সব ধরনের অফিস বন্ধ রাখা হয়। বন্ধ ছিল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতান। সরকারঘোষিত কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্তের পর সীমিত পরিসরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে বিচারকাজ পরিচালনা করা হয়। এর আগে স্বাভাবিক বিচারকাজ চললেও এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে বন্ধ রাখা হয় আগাম জামিন শুনানি।
কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে দফায় দফায় প্রধান বিচারপতিকে আগাম জামিন শুনানি চালু করতে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু করোনা সংক্রমণের হাত থেকে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণকে রক্ষা করতে বন্ধ রাখা হয় এই জামিন শুনানি। সরকার লকডাউন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এখন আগাম জামিন শুনানি চালুর সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। আপিল বিভাগের সব বিচারপতিদের সঙ্গে পরামর্শ করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে আগাম জামিন শুনানি বন্ধ থাকলেও অধস্তন আদালতে আসামিরা আত্মসমর্পণ করে জামিন চাওয়ার সুযোগ ছিল। সেই সুযোগ গ্রহণ করে হাজার হাজার আসামি জামিন নিয়েছেন অধস্তন আদালত থেকে।