পদ্মায় পানি বাড়ছে

ডুবে গেছে রাজশাহীর নিম্নাঞ্চল আশ্রয়ের সন্ধানে মানুষ

রাজশাহীতে চলতি আগস্টের শুরু থেকেই পদ্মার পানি বাড়ছে। এতে শহরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ২ হাজার পরিবার জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। গতকাল বুধবার সকালে রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপত্সীমার ৭৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র বলছে, উজান থেকে আসা ঢলের কারণে পদ্মায় পানি বেড়েছে, আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পাউবো সূত্র জানায়, রামপুর-বোয়ালিয়া, স্টেশনে গত মঙ্গলবার সকালে পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ৫৯ মিটার। গতকাল বুধবার সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা বেড়ে      দাঁড়ায় ১৭ দশমিক ৭১ সেন্টিমিটার। রাজশাহী পাউবোর হাইড্রোলজি বিভাগের পানি পরিমাপক এনামুল হক বলেন, উজানে ঢলের কারণে পদ্মায় পানি বাড়ছে। আগস্ট মাস জুড়েই পানি এভাবে বাড়তে পারে।

এদিকে পদ্মায় পানি বৃদ্ধির কারণে তীরবর্তী নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ইতিমধ্যে পানি সেখানকার বাসিন্দাদের বেশকিছু বাড়িতে ঢুকে পড়েছে। নগরীর রাণীনগর এলাকায় ট্রাস্ট পরিচালিত পাঠশালার মাঠ প্লাবিত হয়েছে। পাঠশালা সংলগ্ন জরিনা বেগমের বাড়িতে এখন কোমরপানি। রাসিকের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আরমান আলী জানান, পঞ্চবটী থেকে হাদির মোড় পর্যন্ত তার ওয়ার্ডের প্রায় ২ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে। পদ্মার ধারে ঝালমুড়ি বিক্রেতা রাবেয়া বেগম (৫৫) বলেন, খাওয়ার যেমন কষ্ট, তার চেয়ে বড় কষ্ট ঘুমানোর। সারা রাত ঘরে বসেই কাটাতে হচ্ছে। পানি বাড়লে বিপদ আরো বাড়বে। তখন কী হবে, বুঝতে পারছেন না। অন্যদিকে কেশবপুর এলাকার মনজুর রহমানের বাড়ির সামনে নৌকায় করে বালুভর্তি বস্তা এনে বাঁধের পাশে ফেলা হচ্ছিল। মনজুর বলেন, এই এলাকায় বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে সেই ২০০০ সালে। পদ্মায় পানি এসে স্রোতের ধাক্কা খাওয়ায় পুরোনো এসব বাঁধ এখন নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। বাঁধ রক্ষায় বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে।

এছাড়া শহরের ওপারে চর খিদিরপুর এলাকায় পদ্মার ভাঙন চলছে। এলাকার বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ভেঙে নিয়ে নৌকায় করে এপারে আসছেন। রাজশাহীর বাঘা এবং গোদাগাড়ী উপজেলায় পদ্মার ওপারের চর ভাঙছে। নতুন করে গোদাগাড়ীর নিমতলা এলাকায় পদ্মার বাম পাড় ভাঙছে। ঐ এলাকায় আগে কখনো ভাঙেনি। এবার ভাঙন দেখে এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন হয়েছেন। সম্প্রতি গোদাগাড়ীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানে আলম এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন।

রাজশাহী পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রিফাত করিম জানান, রাজশাহী শহরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। টি-গ্রোয়েন এবং আই বাঁধ ও কেশবপুর এলাকায় বালুর বস্তা ফেলার কাজ শেষ পর্যায়ে। তালাইমারী শহিদ মিনারের যে এলাকায় পানি ঢুকেছে সেখানে প্রতিরক্ষামূলক কিছু করার নেই। পদ্মার ওপারের চর খিদিরপুরেও কিছু করার নেই। তবে বাঘার ভাঙন প্রতিরোধে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, গোদাগাড়ীর নিমতলায় নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হতে পারে। এখন জরুরি ভিত্তিতে কিছু কাজ করে এলাকার ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, টানা বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে আবারও বাড়তে শুরু করেছে যমুনা নদীর পানি। পানি বৃদ্ধির ফলে বন্যার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে  নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ২৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপত্সীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে কাজীপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টেও যমুনা নদীর পানি ৩৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপত্সীমার ১০৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সিরাজগঞ্জের গেজ রিডার আব্দুল লতিফ ও কাজীপুরের গেজ রিডার ওমর আলী প্রামাণিক  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে যমুনায় পানি বাড়ায় চরাঞ্চলের নদীতীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বসতবাড়িতে পানি উঠে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন এসব এলাকার জনসাধারণ। কৃষক সূত্রে জানা যায় বীজতলা, তিল ও বিভিন্ন শাকসবজির জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে তারা  ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।