শার্শায় মেয়েকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা

পিতার ওপরে অভিমান করে মেয়েকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর মা নিজেও বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে যশোরের শার্শা উপজেলার লক্ষণপুর ইউনিয়নের শুড়ার ঘোপ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃতরা হলেন, ঐ গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে স্বামী পরিত্যক্তা সুমি বেগম (২৫) ও তার মেয়ে আঁখি মনি (৫)। পারিবারিক কলহে পিতার ওপরে অভিমান করে সুমি বেগম এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

মৃত সুমি বেগমের মামা কামরুজ্জামান জানান, পারিবারিক কলহের কারণে পাঁচ বছর আগে সুমিকে তার স্বামী তালাক দেন। এর পর থেকে তিনি শিশুকন্যা আঁখি মনিকে নিয়ে বাবা সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে বসবাস করতেন। এক পর্যায়ে পিতা-মাতা মেয়ে সুমিকে পুনরায় অন্যখানে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। কিন্তু ছোট মেয়ে থাকায় ছেলেপক্ষ আগ্রহী হয় না। আবার ছোট মেয়ে রেখে সুমিও বিয়ে করতে চাইত না। এই নিয়ে সুমির বাবা ও পরিবারের সঙ্গে ঝগড়া হতো।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুমি তার মেয়ে আঁখি মনিকে ভাত খাওয়াচ্ছিলেন। এ সময় বাবা সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে আবারও বিয়ের বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সুমি ভাতে বিষ মিশিয়ে প্রথমে শিশু আঁখি মনিকে খাইয়ে হত্যা করেন। পরে নিজেও ঐ ভাত খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের লোকজন মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিত্সক জসিম উদ্দিন তাদের মৃত ঘোষণা করেন।