আগের মতোই যানজটের দুর্ভোগে রাজধানীবাসী

বিধিনিষেধ শিথিলের পর থেকে প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। কোনো কোনো সড়কে গাড়িও নড়ছে না। দীর্ঘক্ষণ যানজটে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রী ও চালকরা। ভুক্তভোগীরা বলছে, যানজটের কারণে রাজধানীর বনানী, কুড়িল বিশ্বরোড, খিলক্ষেত, উত্তরা ও প্রগতি সরণিতে গাড়ির চাকা নড়ে না। সারি সারি গাড়িতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অলস সময় পার করতে হয় নগরবাসীকে।

এদিকে রাজপথে বের হওয়া মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা একেবারেই দেখা যাচ্ছে না। গতকাল কাওরান বাজারে পথচারী রফিকুল ইসলাম বলেন, এত গরমে মাস্ক পরে গাড়িতে বসে থাকা কঠিন। আবার রাস্তায় হাঁটতে গেলেও মাস্ক পরে হাঁটা যায় না। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। যারা মাস্ক পরার নির্দেশনা দিচ্ছেন তারা তো এসি গাড়িতে চলেন, অফিসেও এসির মধ্যে থাকেন। ফলে তারা পথচারী সাধারণ মানুষের কষ্টটা একেবারেই বুঝতে চান না। ঘামে মাস্ক ভিজে যাচ্ছে ফলে ভেজা মাস্ক পরাও মহা বিরক্তির।

রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে এখন উন্নয়নকাজ চলছে। মিরপুর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চলছে মেট্রোরেলের কাজ। অন্যদিকে উত্তরা থেকে কাওরান বাজার পর্যন্ত চলছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসের কাজ। ফলে সড়ক সংকুচিত হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ফুটপাতও নেই। ফলে গাড়ি আর মানুষ এক সঙ্গেই চলছেন। শাহবাগে আমিনুর রহমান নামে এক বাসযাত্রী জানালেন, মহাখালী থেকে শাহবাগ পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে তার চার ঘণ্টা লেগেছে। গাড়িতে বসে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সব যাত্রী। ঘেমে সবাই বিরক্ত হয়ে পড়েছে।

কয়েক জন যাত্রী ও চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা থেকে বের হওয়ার সময় মহাখালী থেকে বনানী-উত্তরা হয়ে গাজীপুর কমপক্ষে ২০টি স্থানে যানজটে পড়তে হয়। উত্তরা বাইপাইল মহাসড়কে চলমান উন্নয়নকাজের কারণে সড়ক সরু হয়ে পড়েছে। বিমানবন্দর থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত বিআরটিএর উন্নয়ন প্রকল্প চলমান থাকার কারণেও সড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। যথাযথ বিকল্প পথ তৈরির কথা থাকলেও সেটা করা হয়নি। কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় দেখা যায়, সড়কজুড়ে তীব্র যানজট। যান চালকদের বক্তব্য, উত্তরা-টঙ্গী থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে বেশ কয়েক দিন ধরে। মহাখালী টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার পর রাস্তায় যাতে কোনো গাড়ি থেমে না থাকে, সেজন্য কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশকে বিশেষভাবে কাজ করতে দেখা গেছে। মহাখালী থেকে গুলশানে যেতে হলে অনেক দূরে গিয়ে ইউটার্ন করে আসতে হয়। ক্রসিং তুলে ইউটার্ন করার ফলে এই সড়কে যানজট বেড়েছে বলে পথচারীদের বক্তব্য।