গারো নৃ-গোষ্ঠীর ফসল কেটে ফেলা ও হাজং নারীর যৌন নিপীড়নকারীর শাস্তি দাবি

শেরপুরের শ্রীবরদীতে বন বিভাগ কর্তৃক গারো নৃ-গোষ্ঠীর ফসল কেটে ফেলার প্রতিবাদে এবং সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে হাজং নৃ-গোষ্ঠীর নারীর ওপর যৌন নিপীড়নকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। গতকাল  রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।

পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অলিক মৃ বলেন, ‘সামাজিক বনায়নের নামে শেরপুরের শ্রীবরদীতে বন বিভাগ কর্তৃক গারো আদিবাসীদের জুমের ফসল কেটে ফেলায় কয়েক লক্ষাধিক টাকার ফসলের ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে পাঁচটি আদিবাসী পরিবার। উচ্ছেদ আতঙ্কে রয়েছে অর্ধশতাধিক আদিবাসী পরিবার। এ ব্যাপারে তিনি রাষ্ট্রের কাছে যথাযথ ক্ষতিপূরণসহ এরকম কাজে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বিট অফিসারকে দ্রুত অপসারণ ও শাস্তির দাবি জানান।

তিনি আরো বলেন, শুধু শেরপুরের ঘটনায় নয়, দেশের সিলেট, টাঙ্গাইল এবং পার্বত্য চট্টগ্রামেও আদিবাসীদের উচ্ছেদের যড়যন্ত্র করছে বন বিভাগ। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে হাজং নারীর ওপর ধর্ষণকারী রাশিদ মিয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া গারো কিশোরীর ধর্ষণকারী ফারুককে দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. খায়রুল ইসলাম চৌধুরী রুপম সংহতি জানিয়ে বলেন, করোনার মধ্যেও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীর ওপর সহিংসতা, নির্যাতন-নিপীড়ন, ভূমি দখল থেমে নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে দেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীর ওপর সহিংসতা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধর্ষণকারীরা দ্রুত জামিন পাওয়ার কারণে দেশে এমন নৃশংস ঘটনা ঘটে যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

সমাবেশে আয়োজক সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক বাদল হাজংয়ের সঞ্চালনায় আদিবাসী যুব ফোরামের সভাপতি অনন্ত বিকাশ ধামাই, বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক বুশ নকরেক, বাংলাদেশ হাজং ছাত্র সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আশীষ হাজং, কোচ আদিবাসী ইউনিয়নের যুগ্ম-আহ্বায়ক গৌর কোচ, হাজং স্টুডেন্ট কাউন্সিলের নাইম হাজং, গাসুর সতীর্থ চিরান, জিএসএফের লেবীয় ম্রং প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।