বর্তমান সমাজে স্পষ্টভাবে বলার মতো যেই কয়টা অপরাধ রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ওয়ারিশদের সম্পত্তি আত্মসাত্। জমিজমার বিরোধ সর্বত্রই রয়েছে। জমিজমার বিরোধকে কেন্দ্র করে সমাজে নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। কোনো কোনো জায়গায় হতাহতের মতো ঘটনাও ঘটে। দুনিয়াতে এতকিছু হওয়ার পরও এই অপরাধটা এত নরমাল হয়ে গেছে যে, মানুষ এই জঘন্য অপরাধটা করার সময় এতটুকুনও ভাবছে না যে, পরকালে এর পরিণতি কী হবে।
ওয়ারিশদের মধ্য হতে বর্তমানে বেশি অবহেলিত হচ্ছে মেয়েরা—বোনেরা। অর্থাত্ মৃতব্যক্তির মেয়েরা। বিয়ের পর যখনই মেয়ে বা বোন স্বামীর বাড়ি চলে যায়; তখনই ভাইয়েরা ঐ বোনের সম্পদ লুটেপুটে খাওয়া শুরু করে। বিভিন্ন উপায়ে তাদেরকে বঞ্চিত করার পাঁয়তারা করে। অথচ পবিত্র কোরআনুল করিম তাদেরকেও অংশ দিয়েছে। কোরআনের ভাষায় দুই মেয়েকে এক ছেলের সমপরিমাণ সম্পদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাদের সম্পদও আজ ভাইয়েরা এভাবে লুটেপুটে খাচ্ছে যে, ভাবছে এতে কোনো গুনাহই নেই।
ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের ওপর দুই ধরনের হক রয়েছে। এক হলো আল্লাহর হক। দুই হলো বান্দার হক। এই দুটি হকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আল্লাহর হক। আর সবচেয়ে জটিল হচ্ছে বান্দার হক। মানুষ যদি আল্লাহর কোনো হক নষ্ট করে তাহলে আল্লাহ ইচ্ছা করলে তা মাফ করে দেন। পক্ষান্তরে কেউ যদি অন্য কোনো মানুষের হক নষ্ট করে তাহলে যতক্ষণ পর্যন্ত ঐ বান্দা তা মাফ না করবেন ততক্ষণ স্বয়ং আল্লাহও মাফ করবেন না। মূলত এই জন্যেই ইসলাম ধর্মে বান্দার হককে এত গুরুত্ব দিয়েছে। এক হাদিসে নবিজি (স) বলেন, আল্লাহ তায়ালা শহিদের যাবতীয় অন্যায় মাফ করে দেন। কিন্তু ঋণ মাফ করবেন না। কেননা, এটা বান্দার হক।
এখানে ভেবে দেখার বিষয় হচ্ছে, একজন শহিদ যার সকল অপরাধ মাফ করে দেওয়া হয়। শাহাদাতবরণের সঙ্গে সঙ্গে যে জান্নাতে প্রবেশ করে। তার ক্ষেত্রে যদি বিষয়টি এমন হয় যে, সাধারণ একজন মানুষের হক নষ্ট করার অপরাধ আল্লাহ্ মাফ না করেন; তাহলে সাধারণ একজন মানুষ যদি কাছের কোনো মানুষের হক নষ্ট করে, তাহলে কী অবস্থা হবে? তার পরিণতি কতটুকু ভয়াবহ আর ভয়ানক হবে তা কল্পনাও করা যায় না। মানুষ যেন এই পরিণতির শিকার না হয় এজন্য আল্লাহ তায়ালা সতর্ক করেছেন। বলেছেন, ‘আর যারা অন্যায়ভাবে এতিমদের সম্পদ আত্মসাত্ করে তারা মূলত তাদের পেটে আগুন ঢোকাচ্ছে। অচিরেই তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ (সুরা নিসা : আয়াত ১০)
হজরত আয়েশা সিদ্দিকী (রা) সূত্রে বর্ণিত, মহানবি (স) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারো এক বিঘত পরিমাণ সম্পত্তি ভোগ করবে, কিয়ামতের দিন সাত তবর (স্তর) জমিন তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।’ (বুখারি ২৪৫৩, মুসলিম ১৬১২)। অতএব, এ ব্যাপারে আমাদের সাবধান হতে হবে।
lলেখক :শিক্ষার্থী, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা