শ্রাবণজলে লহুর রেখা

আমার শ্রাবণজলে মিশে আছে

ছোপ ছোপ শোক—জন্মের সমস্ত কান্না

অশ্রু আকুতি আক্ষেপ ঘূর্ণি মিশে আছে

পিতার রক্তের বহতা নদীর স্রোতে—

নিঃশ্বাসে—মিশে আছে শেষ দীর্ঘশ্বাসে—

 

ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল প্রশস্ত সাহসী বুক

সুদীর্ঘ পথ হেঁটে আসা সঞ্চিত প্রেরণায়

তর্জনী স্ফুলিঙ্গে বজ্রকণ্ঠে এঁকেছিল

বিজয় ললাট—মুক্ত আকাশ—স্বাধীন পতাকা

কিন্তু সেদিন আলো-আঁধারি বেলায়

বাঙালির নামে তারা মাখে জনকের রক্ত

বুলেট আঘাতে জর্জরিত নুইয়ে পড়ে আলো

সিঁড়ি বেয়ে গড়িয়ে পড়ে মুক্তি—স্বাধীনতা—

 

সমস্ত রাত অন্ধকারে লেপ্টে থাকে ভয়

স্বদেশি কিছু হায়েনার কুিসত চিত্কার

মর্মন্তুদ ছবি আঁকে তাদের সহিংস্র নখ

ভিনদেশি মগজের বুনো অস্ত্রের হুংকার

নিথর পিতার পাশে পড়ে থাকে শখের পাইপ

বারুদের গন্ধে মিশে যায় এরিনমোরের ঘ্রাণ

থেকে যায় অভিশপ্ত দাগ দেয়ালে দেয়ালে;

 

বাংলা মায়ের স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর চোখ

মুদে আসে চিরতরে—চির শোক মিছিলে

পড়ে থাকে সেই স্বপ্ন দেখার—মুক্তির চশমা

সেই থেকে রক্তে ভেজা সাদা পাঞ্জাবিটা

পিতৃহারা এতিম জাতির শোকের মানচিত্র

মানচিত্র ভেসে যায় আমার শ্রাবণজলে

ভেসে যায় লহুর রেখা শ্রাবণধারায়—