কয়েক জনের ফাঁসির সাজা কার্যকর হয়েছে। অনেকেই আছেন জেলে। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে ১৭ বছর পালিয়ে ছিলেন রওশন ওরফে আলী ওরফে উদয় মণ্ডল। নাম-পরিচয় আর ঠিকানা পালটে সংসারও পেতেছিলেন, করেছেন ব্যবসা-বাণিজ্যও। কিন্তু কলেজপড়ুয়া দুই ছেলে-মেয়ে জানতই না যে, তাদের বাবার মাথার ওপর ফাঁসির দণ্ড ঝুলছে। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) নেতা কাজী আরেফ হত্যা মামলায় ফাঁসির আসামি রওশনকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য। র্যাব-৫ এর একটি দল বুধবার রাতে রাজশাহী মহানগরের শাহ মখদুম থানার ভারালীপাড়া থেকে রওশনকে গ্রেফতার করে।
১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের কালিদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে একটি সভা চলার সময় ব্রাশফায়ারে জাসদের পাঁচ নেতা নিহত হন। তখন থেকেই পলাতক ছিলেন রওশন। এরপর ২০০৪ সালে কুষ্টিয়ার জেলা ও দায়েরা জজ আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর তাকে আর গ্রেফতার করতে পারেনি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। পরে হাইকোর্টেও তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল রাখে আদালত।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, নাম পালটে ‘আলী’ নামে রাজশাহীতে বসবাস করছিলেন। এছাড়া নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম দিয়েছেন উদয় মণ্ডল। মঈন বলেন, রাজশাহীতে গরুর খামার ছাড়াও জায়গা-জমি বেচাকেনার ব্যবসা করছিলেন রওশন। কলেজ পড়ুয়া এক ছেলে ও এক মেয়ে থাকলেও সন্তানরাও তার প্রকৃত নাম আর খুনের কথা জানত না। তবে রওশনের স্ত্রী সব ঘটনা জানতেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি একটি হত্যা মামলার তদন্তে রওশন রাজশাহী এলাকায় আছেন বলে তথ্য পায় র্যাব। তদন্তের একপর্যায়ে তার মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়। কিন্তু মোবাইল নম্বরটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না। পরে গত বুধবার মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুত্ বিল পরিশোধের জন্য নাম্বারটি সচল করেন রওশন। বিদ্যুত্ বিল পরিশোধের এ তথ্য ধরেই তার বাসার নম্বর খুঁজে পায় র্যাব। কিন্তু নাম ভিন্ন হওয়ায়, এই ব্যক্তিই রওশন কি না সেটি নিয়ে অনিশ্চিয়তা দেখা দেয়। তবুও রাজশাহীর শাহমখদুম থানাধীন ভারালীপাড়া এলাকার ঐ বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে তিনি নিজেই কাজী আরেফ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। অভিযানে সঙ্গে থাকা এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।