বিস্ফোরণ হওয়া মসজিদ খুলে দেওয়ার দাবিতে এলাকাবাসির আল্টিমেটাম

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার তল্লা এলাকায় বাইতুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনার দীর্ঘ এক বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত নামাজের জন্য খুলে না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসি ও নিহতদের স্বজনরা। শুক্রবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জুম্মার নামাজের পর মসজিদের সামনে স্থানীয় মুসুল্লিরা ও এলাকাবাসি আয়োজিত প্রায় এক ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। 

এসময় বক্তারা বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকে মসজিদটি বন্ধ রাখায় ভেতরে দীর্ধদিন যাবত পানি জমে মেঝে স্যাঁতস্যাঁতে ও জরাজীর্ণ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে নামাজের জন্য অনুপযোগি ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে। এছাড়া মুসুল্লিদেরও নামাজ আদায়ে ব্যাঘাত ঘটছে। 

এসব বিষয় তুলে ধরে আগামী মংগলবারের মধ্যে তিতাসের তদন্ত কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলসহ শুক্রবারের মধ্যে মসজিদটি মুসুল্লিদের নামাজের জন্য খুলে দিতে জেলা প্রশাসনের কাছে দাবি জানান। এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সহযোগিতা কামনা করেন তারা। অন্যথায় তিতাস অফিস ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও এলাকাবাসি হুঁশিয়ারি দেন। 

মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন মসজিদের নিহত ইমাম আব্দুল মালেক নেছারির দুই ছেলে নাইমুল ইসলাম ও ফাহিমুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। মানববন্ধন শেষে দূর্ঘটনায় নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। মুসুল্লিরাসহ স্থানীয় এক হাজারের বেশি মানুষ এই মানববন্ধনে অংশ নেন। 

২০২০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাতে এশা’র নামাজ চলাকালে গ্যাস পাইপ লাইনের লিকেজ ও বিদ্যুতের সর্টসার্কিট থেকে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অর্ধ শতাধিক মুসুল্লি দগ্ধ হন। পরে ঢাকা মেডিকেলের শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টটিউটে চিকিৎসাধিন অবস্থায় ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ ৩৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। 

এ ঘটনায় তিতাসের আট কর্মকর্তা-কর্মচারি, মসজিদ কমিটির সভাপতি, ডিপিডিসির মিটার রিডার ও স্থানীয় এক বিদ্যুৎমিস্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট আরো বেশ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার সিআইডি পুলিশকে দেয়া হলে তদন্ত শেষে ২৯ জনকে আসামি করে গত ৩১ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন সংস্থাটির তদন্ত কর্মকর্তা।

ইত্তেফাক/এসজেড