মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় চাষ করা হচ্ছে মরুর দেশের ফল সাম্মাম। মালচিং পদ্ধতিতে এ ফলের চাষ করে সফলতা পেয়েছেন এক কৃষক। তিনি জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার বলরামপুর গ্রামের কাজী আনোয়ার হোসেন। এর আগে তিনি একই পদ্ধতিতে বারোমাসি হলুদ ও কালো তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মালচিং সিটের ভেতরে সাম্মামের চারা লাগিয়েছেন ঐ কৃষক। মাচায় গাছ তুলে দেওয়া হয়েছে। ঝুলে থাকা ছোট-বড় সারি সারি সাম্মাম ফল নেটে বাঁধা রয়েছে। কোনোটির ওজন তিন কেজিরও বেশি। জমি জুড়ে পাকা বাঙ্গির ঘ্রাণ ছড়িয়ে আছে। হলুদ মসৃণ ও ধূসর আবরণের এ ফলের ভেতরটা হলুদ বাঙ্গির মতো ও স্বাদে কড়া মিষ্টি। বাংলাদেশে সাম্মাম ফল রকমেলন, সুইটমেলন, মাস্কমেলন, হানিডিউ নামেও পরিচিত। চাষি কাজী আনোয়ার হোসেন জানান, বিভিন্ন ধরনের ফল চাষের প্রতি আগ্রহ থেকে ইউটিউব দেখে বীজ সংগ্রহ করে তিনি সাম্মাম ফলের চাষ শুরু করেন। ফল আসতে ৯০ দিন সময় লাগে। তিনি ৪০ শতক জমিতে সাম্মাম চাষ করেছেন। এতে প্রায় সোয়া ১ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন। আশা করছেন আরো ১ লাখ টাকার ফল বিক্রি করতে পারবেন। তিনি প্রতি কেজি ফল ২০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। অনেক ক্রেতা জমিতে এসে এই ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বিষমুক্ত উপায়ে এ ফলের চাষ করেছেন বলেও জানান।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-কুমিল্লার উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এটি মরু অঞ্চলের ফল। সেখানে এটিকে সাম্মাম বলে। সাম্মাম চাষে কুমিল্লার মাটি ও আবহাওয়া বেশ উপযোগী। এ ফলের চাষ কুমিল্লায় এই প্রথম। এটিকে কেউ রকমেলন বা সুইটমেলনও বলে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সাম্মামে প্রচুর পরিমাণ বিটা ক্যারোটিন রয়েছে। এই ফলটি রসালো, খেতেও সুস্বাদু। এছাড়াও এতে রয়েছে ভিটামিন-সি, পটাশিয়াম, ফলিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, জিঙ্ক, কপার ও ম্যাঙ্গানিজ। আনোয়ার হোসেন একজন উদ্যমী চাষি। এর আগেও তিনি কালো ও হলুদ তরমুজ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। আমরা তাকে নানাভাবে পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে আসছি।’