বগুড়ার শেরপুরে ইউরিয়ার দাম বৃদ্ধির অভিযোগ

আমন মৌসুম

আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা

আমন মৌসুমের শুরুতেই বগুড়ার শেরপুরে ইউরিয়ার দাম বৃদ্ধির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সার কিনতে গেলে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অনেক কৃষক। ফলে আমনের ফলন-বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত দুই-তিন দিন ধরে স্থানীয় বাজারে এ অবস্থা চলছে বলে জানা গেছে।

শেরপুর উপজেলার মামুরশাহী গ্রামের কৃষক দুলাল বলেন, ‘৪০ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছি। প্রতিবস্তা ইউরিয়া কিনেছি ৮৬০ টাকা দরে।’

সাধুবাড়ি গ্রামের আলমগীর হোসেন স্বপন ও খোরশেদ আলম বলেন, ‘জমিতে সার দেওয়ার এখন উপযুক্ত সময়। তাই সার কেনার জন্য গত মঙ্গলবার একাধিক দোকানে যাই। প্রথমে সব ব্যবসায়ী তাদের কাছে কোনো সার নেই বলে জানিয়ে দেন। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতিবস্তায় ১০০-২০০ টাকা বেশি দিয়ে সার সংগ্রহ করি। তবে কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি।’

গোলাম রব্বানী নামের এক কৃষক বলেন, ‘১০ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছি। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই সার নিয়ে খুবই বিপদের মধ্যে আছি। জমির আগাছা ও ঘাস মারার কীটনাশক চারা রোপণের ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ইউরিয়ার সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হয়। কিন্তু ১৫ দিন পার হয়ে গেলেও ইউরিয়া সংগ্রহ করতে পারিনি। তাই জমিতে ওষুধ ও সার দিতে পারছি না।’

শেরপুর ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মকবুল হোসেন বলেন, ‘বগুড়া বাফার গোডাউন থেকে চাহিদার তুলনায় সার সরবরাহ করা হচ্ছে না। তাই সারের এই সংকট তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কোনো বাড়তি টাকায় সার বিক্রি করা হচ্ছে।’

শেরপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে—চলতি মৌসুমে শেরপুর উপজেলায় ২২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ইতিমধ্যে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। আর দু-এক দিনের মধ্যে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব দিক বিবেচনায় এনেই চাহিদার বিপরীতে সরকারিভাবে সারের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেই মোতাবেক পর্যায়ক্রমে বিসিআইসি ১২ জন এবং বিএডিসির ২১ জন ডিলার চাহিদা অনুযায়ী সার উত্তোলন করে বিক্রি করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা মাসউদ আলম বলেন, ‘চলতি আগস্টে ইউরিয়ার বরাদ্দ রয়েছে ৯০৭ মেট্রিক টন। মঙ্গলবার পর্যন্ত কেবল ২৮০ মেট্রিক টন উত্তোলন করা হয়েছে।’

শেরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ‘শেরপুরে সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকরা যেন সরকার নির্ধরিত মূল্যে সার পায়, সে জন্য আমাদের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ময়নুল ইসলাম বলেন, ‘আমার জানা মতে সারের কোনো সংকট নেই। তার পরও সংকট তৈরি হলে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’