পা দিয়েই সবকিছু করেন হাতবিহীন হারশাদ

দুই হাত ছাড়াই জন্মেছিলেন হারশাদ গোথাঙ্কার। কিন্তু এই শারীরিক প্রতিবন্ধতা তাকে ভারতের একটি রাজ্যে ক্যারম চ্যাম্পিয়ন হতে আটকাতে পারেনি। এক পায়ে দাঁড়িয়ে অন্য পা দিয়ে এমন অবলীলায় ক্যারাম খেলেন, যা দেখে বোঝার উপায় নেই যে, তিনি পা দিয়ে ক্যারম খেলছেন। একমাত্র ইচ্ছেশক্তি থাকলেই কারো পক্ষে এমনটা সম্ভব! বিশ্ব ক্রিকেটের কিংবদন্তি

ভারতীয় ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার সম্প্রতি হারশাদ গোথাঙ্কারের একটি ভিডিও শেয়ার করে এমনটাই মন্তব্য করেছেন।

টুইটারে যে ভিডিও টেন্ডুলকার শেয়ার করেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি ক্যারম খেলছেন। অনায়াসেই খেলছেন বেস, ইঞ্চি, অ্যাঙ্গেল। স্ট্রাইকারে আঙুলের ছোঁয়া দিতেই সব গুটি পকেটে যাচ্ছে। এমন ক্যারম তো অনেকেই খেলতে পারেন। কিন্তু যিনি খেলছেন,     সেই হারশাদের দুই হাত নেই। খেলছেন পা দিয়ে।

টুইটারে টেন্ডুলকার লিখেছেন, ‘২৩ বছর বয়সি হারশাদ গোথাঙ্করকে দেখুন, আপনারাও মুগ্ধ হবেন। ও এমন একজন, যে মনের জোরে অসাধ্য সাধন করেছে। ইচ্ছা থাকলে সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়া যায়। হারশাদ কঠিন কাজটা সহজে সেরে এটা প্রমাণ করেছে। তোমার সাধনাকে সম্মান জানাই। আশা করি, আপনারাও তার লড়াই দেখে অনুপ্রাণিত হবেন। ইচ্ছেশক্তি থাকলে সবকিছুই সম্ভব।’ শচীনের শেয়ার করা ভিডিও মুহূর্তে ভাইরাল হয় নেট দুনিয়ায়।

শুধু ক্যারম নয়, পায়ের আঙুল দিয়ে অনায়াসে কম্পিউটার, মোবাইল ব্রাউজ করেন হারশাদ। লিখতে পারেন, নিজের জামা-কাপড়ও পরতে পারেন, প্রয়োজনীয় সবকিছুই করতে পারেন পা দিয়ে। প্রতিবন্ধী হয়েও অনেকটা স্বাভাবিক মানুষের মতো জীবন যাপন করছেন তিনি।

হারশাদ বিবিসিকে বলেন, ‘শচীন টেন্ডুলকার আমার ভিডিও শেয়ার করেছেন দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি। আমি অনেক খুশি। আমার বাবা বেঁচে থাকলে তিনিও অনেক খুশি হতেন। তিনিও শচীন টেন্ডুলকারের একজন বড় ভক্ত ছিলেন। আমি যাতে আমার চাওয়ামতো জীবন যাপন করতে পারি, সেজন্য সব সময় বাবা উত্সাহ দিতেন। তিনি আমাকে লিখতে, সাঁতার কাটতে, ক্রিকেট ও ক্যারম খেলতে শিখিয়েছেন। তিনি আমাকে আত্মনির্ভরশীল হতে শিখিয়েছেন।’ হারশাদ বলেন, ‘একটি কথা শুধু সবাইকে বলতে চাই, নিরাশ হবেন না। আশা ছাড়বেন না।’