কক্সবাজার থেকে লবণ সরবরাহ বন্ধের আশঙ্কা

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুর লবণ শিল্প এলাকা থেকে সারা দেশে লবণ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। একমাত্র চলাচলের পথ ইসলামপুর-বটতলী দেড় কিলোমিটারের সড়কটি খানা-খন্দ সৃষ্টি হয়ে মরণফাঁদে পরিণত হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যানবাহন দূরে থাক সড়কটিতে পায়ে হাঁটাও দুরূহ হয়ে পড়েছে। প্রায়ই গর্তে পড়ে উলটে খাদে পড়ছে লবণবোঝাই ট্রাক। এতে ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।

লবণ পরিবহনে সরকারি রাজস্বের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে সড়ক উন্নয়ন ফি দেওয়ার পরও এই দুর্ভোগে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে মিল মালিক, লবণ ও পরিবহন ব্যবসা-সংশ্লিষ্টদের মাঝে। সড়কটি দ্রুত সংস্কার দাবিতে পথে নেমেছে এলাকাবাসী। ইসলামপুর সমাজ কল্যাণ ছাত্র সংগঠনের ব্যানারে শুক্রবার ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করা হয়। এতে স্থানীয় মিল মালিক, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতাসহ নানা পেশার লোকজন অংশ নেন।

সূত্র জানায়, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় ১৯৭২ সালে মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক উদ্যোক্তা ইসলামপুর লঞ্চ ঘাটে ‘কক্সবাজার সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ নামে লবণ মিল স্থাপন করেন। কালের পরিক্রমায় এখানে বর্তমানে লবণ মিল রয়েছে প্রায় ৭০টি। এখন নিয়মিত প্রক্রিয়াজাত কার্যক্রম চালাচ্ছে অর্ধশতাধিক লবণ মিল। কক্সবাজার জেলার অধিকাংশ লবণ এখানকার মিলে আনা হয়। আর দেশের চাহিদার ৯৫ শতাংশ লবণ কক্সবাজারেই উত্পাদন ও এখান               থেকে সারা দেশে সরবরাহ হয়। বর্ষা মৌসুমেও প্রতি?দিন গড়ে ২০-৩০ ট্রাক লবণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করে। গ্রীষ্মে ট্রাকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০-৭০টিতে। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নাপিতখালী বটতল এলাকা হয়ে ইসলামপুর লঞ্চঘাট পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক দিয়েই লবণের এসব ট্রাক মহাসড়কে উঠে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়।

সরেজমিন দেখা গেছে, আরাকান সড়কের বটতলী স্টেশন থেকে ইসলামপুর বাজার পর্যন্ত পুরো সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলেই সড়কের গর্তে পানি জমে একাকার হয়ে ছোট-বড় যানবাহন উলটে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বটতলী স্টেশন থেকে চৌফলদন্ডী ব্রিজ পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার সড়ক কার্পেটিং করতে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরে টেন্ডার হয়। মেসার্স চকরিয়া ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি নামের একটি প্রতিষ্ঠান এর কার্যাদেশ পায়। উন্নয়ন প্রকল্পের বেশ কয়েকটি কাজ শেষ হলেও ইসলামপুর বাজার থেকে নাপিতখালী পর্যন্ত কার্পেটিং হয়নি এখনো।

স্থানীয় লবণ ব্যবসায়ী হারুন রশিদ জানান, সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। তাছাড়া শিল্প নগরী হিসেবে প্রতিদিন প্রবেশ করে লবণবোঝাই ট্রাক। সড়কের বেশকিছু অংশ জুড়ে খানাখন্দে ভরে থাকায় চালকরা এ সড়কে প্রবেশ করতে চান না। এমন হলে সারা দেশে লবণ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে তার আশঙ্কা।

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা ট্রাকচালক বশর আহমদ বলেন, ইসলামপুরের মতো অকেজো সড়ক কোথাও দেখিনি। বৃষ্টির পানি জমে থাকলে বোঝা যায় না কোথায় গর্ত আর সমতল। এতে অনেক ট্রাক দুর্ঘটনায় শিকার হয়। ইসলামপুর লবণ মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনজুর আলম দাদাভাই বলেন, লবণ পরিবহনের বিপরীতে ট্রাকপ্রতি রাজস্ব দেওয়া হয়। ফি বছর কোটি টাকা রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমলেও সেই অনুপাতে সড়কটির উন্নয়ন নেই। এছাড়া সড়ক উন্নয়ন ফি নামে ট্রাকপ্রতি কিছু টাকা ট্রান্সপোর্ট চালানের সময় দেওয়া হচ্ছে। এরপরও সড়কটির গর্ত ভরে না। গত বুধ ও শুক্রবারও লবণবোঝাই দুটি ট্রাক সড়কের গর্তে পড়ে উলটে গিয়ে লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম বলেন, সড়কটি দিয়ে ২৫-৩০ মেট্রিক টন ওজন নিয়ে যান চলাচল করে। অথচ এলজিইডি সড়কটি তৈরি করেছে ১২-১৫ মেট্রিক টন ওজন বহনের উপযোগী করে। এতে সড়কটিতে জোড়াতালির সংস্কার কোনো কাজে আসছে না।

এ প্রসঙ্গে এলজিইডি কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুর রহমান জানান, সড়কটি আসলেই গুরুত্বপূর্ণ। চলমান কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে চলমান সংস্কার কাজের ব্যাপারে জানতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ফরিদুল আলমকে  ফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।