রাজধানীর বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ী এলাকার একটি ছয় তলা বাণিজ্যিক ভবনের তৃতীয় তলায় একটি কেমিকেল গোডাউনে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। গোডাউনে কেমিকেল থাকায় ঘটনাস্থল থেকে আগুন ও ধোঁয়ার কুন্ডলী বের হয়। দাউ দাউ করে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ায় আশেপাশের লোকজনের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে বিমানবাহিনী, পুলিশ, ওয়াসা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কর্মীরা। চার ঘন্টা চেষ্টার পর দুপুর ১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) রায়হান কবির বলেন, ‘খবর পেয়ে ১০টা ১৪ মিনিটে বনানী ফায়ার স্টেশন থেকে চারটি ইউনিট সেখানে পৌঁছায়। এরপর তেজগাঁও ও কুর্মিটোলা স্টেশন থেকে আরও ছয়টি ইউনিট আগুন নির্বাপণকাজে যোগ দেয়। পরে মোট ১৫টি ইউনিট অগ্নিনির্বাপনে কাজ করে’।
বনানী চেয়ারম্যানবাড়ীর ৭৯/৩ নম্বর ভবনের ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলায় বেসরকারি টেলিভিশন আনন্দ টেলিভিশনের অফিস। তৃতীয় তলায় এমিকন নামে প্রতিষ্ঠান অবস্থিত। ক্রেস্ট ও মেডেল বানানোর উপকরণ এই গোডাউনে মজুদ করা ছিল। তবে আগুন লাগার সময় ওই ভবনের আনন্দ টেলিভিশন ছাড়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। অগ্নিকান্ডের খবরের পরপর আনন্দ টেলিভিশন অফিসে কর্মরত সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নিরাপদে বের হয়ে যান। শত শত মানুষ জড়ো হয় ওই ভবনকে ঘিরে। পরে ভবনের সামনে বিমানবন্দর সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়। ভবনে পানির কোনো রিজার্ভার ছিল না। ফায়ার সার্ভিস দুপুর ১টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নেভাতে গিয়ে একজন ফায়ারম্যান দগ্ধ হন।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, বিল্ডিং কোড অনুযায়ী ভবনটিতে অগ্নিনির্বাপনের কোনো ব্যবস্থা নেই। ভবনের নিজস্ব কোনো ফায়ার ফাইটিং ব্যবস্থা ছিল না। পাশের একটি ভবন থেকে পানি নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আগুনের সূত্রপাতের কারণ তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।
ঘটনার পর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি বলেন, উত্তর সিটি কর্পোরেশনে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকতাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে- প্রতিটি বিল্ডিংয়ের মালিককে বিল্ডিং আইন মেনে ট্রেড লাইসেন্স দিতে হবে।