বরিশালে হামলা-সংঘর্ষ

মেয়রের মামলা প্রত্যাহার দাবিতে আন্দোলনরত কর্মীদের অবশেষে কাজে যোগাদান

বরিশাল সদর উপজেলা কমপ্লেক্সে সিটি করপোরেশনের ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে ইউএনওর বাসভবনে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অপসারণ এবং ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবিতে নগরীতে পৃথক কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকালে বরিশাল ক্লাবের হলরুমে বিভাগের সব পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যানগণের পক্ষে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। এদিকে একই দাবিতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন করেছে। বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল হাসান বাদল বলেছেন, নগরের পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজিবি নামানোর কোনো প্রয়োজন নেই।

মেয়র-চেয়ারম্যানদের সংবাদ সম্মেলন : বিকাল ৩টায় পৌরসভার মেয়রগণের সংবাদ সম্মেলনে ১৮ আগস্টের রাত সাড়ে ৮টা থেকে পরবর্তী তিন ঘণ্টার পুরো ভিডিও জনগণের সামনে প্রকাশের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে দায়ের করা দুইটি মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, উপজেলা     নির্বাহী কর্মকর্তাকে অপসারণ ও বিচার বিভাগীয় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়। সেখানে বিভাগের ২৬ পৌরসভার মধ্যে ১২টির মেয়র উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গৌরনদী পৌরসভার মেয়র হারিছুর রহমান হারিছ। উপস্থিত ছিলেন বানারীপাড়ার মেয়র সুভাষ চন্দ্র শীল,  উজিরপুরের মেয়র গিয়াসউদ্দিন মিয়া, মুলাদীর মেয়র শফিকুজ্জামান রুবেল প্রমুখ।

এর এক ঘণ্টা পর একই স্থানে বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশন, বরিশাল বিভাগের উদ্যোগে ৬৩ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানবৃন্দের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গৌরনদী উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরি। লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি। এসময় বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, বাবুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী ইমদাদুল হক দুলাল, আগৈলঝাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান রইচ উদ্দিন সেরনিয়াবাত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া একই দাবিতে শুক্রবার বিকালে নগরীর সোহেল চত্বরে জেলা ও মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ সমাবেশ করে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার করে ইউএনওর অপসারণ ও বিচার দাবি করেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিসিসি কর্মীদের মানববন্ধন ও পরে কাজে যোগদান : দুপুরে নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন করেছেন। এতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাও অংশ নেন।

এদিকে মেয়রের আহ্বানে গতকাল রাত ৮টা থেকে নিয়মিত কাজ শুরু করেছেন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। এর আগে সন্ধ্যা সাতটায় মেয়র জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তাদেরকে কাজে যোগদানের আহ্বান জানান।

ঢাকায় কাউন্সিলর গ্রেফতার :বুধবার রাতে বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে হামলা ও পরে পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার দুই নম্বর আসামি ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ সাঈয়েদ আহম্মেদ মান্নাকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-২। বিষয়টি শনিবার দুপুরে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন। গ্রেফতার মান্না বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদ এলাকায়  বড় বোনের বাসা থেকে মান্নাকে  গ্রেফতার করা হয়।

দুই মামলায় গ্রেফতার ২১:বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম জানান, বুধবার ঘটনার দিন এবং পরের দিন ১৩ জনকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে শনিবার দুপুর পর্যন্ত অভিযানে আরো আট জনকে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি মমিন উদ্দিন কালু, বরিশাল জেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ শাহরিয়ার বাবু্ও রয়েছেন।

বরিশালে আবর্জনার স্তূপ : শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বিভিন্ন সড়কে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ দেখা গেছে। নগরীর বাসিন্দারা জানান, গত দুই দিন ধরেই রাস্তায় রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা ফেলা রয়েছিল।