পুলিশের হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে আন্দোলনে যাচ্ছে পণ্য পরিবহন মালিকরা। গতকাল শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান, ট্যাংকলরি, প্রাইম মুভার মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক মো. রুস্তম আলী খান। চালক লিটন হত্যা, আয়কর বৃদ্ধি, পুলিশের হয়রানি, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সমন্বয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় নেতারা বলেন, ট্রাক ড্রাইভার লিটন হত্যার বিষয়টি নিয়ে দেশের পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস পুলিশি হেফাজত অপরাধীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান। কিন্তু উত্তরা পূর্বথানা হেফাজতে থেকে গত ২ আগস্ট ড্রাইভার লিটনকে অমানুষিক অত্যাচার করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আর এই হত্যাকাণ্ডকে পুলিশ আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে চাইছে। বক্তারা আরো বলেন, গত দুই বছর ধরে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ ড্রাইভারদের লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ রেখেছে। লাইসেন্স প্রদান বন্ধ থাকায় স্লিপের সাহায্যে গাড়ি চালাতে গিয়ে ড্রাইভারদের রাস্তায় রাস্তায় পুলিশি মামলা ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। আর যেসব ড্রাইভারের লাইসেন্স মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে তাদের স্মার্ট কার্ডে মেয়াদ না থাকায় প্রতিনিয়ত সড়ক-মহাসড়কে মামলা ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে।
নেতারা আরো বলেন, বিগত এক বছর ধরে পরিবহনের সংগঠনগুলো বিশেষ করে পণ্য পরিবহন সংগঠনের সার্ভিস চার্জ আদায় সরকার বন্ধ করে রেখেছে। কিন্তু সরকার একদিক দিয়ে সার্ভিস চার্জ বন্ধ করে অন্যদিকে আবার ইজারা দিয়ে চাঁদাবাজি করার অনুমতি দিয়েছে ও দিচ্ছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ সারা দেশের সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো রীতিমতো ইজারাদার নিয়োগ করে সড়ক-মহাসড়কে পণ্য পরিবহনের গাড়ি থেকে চাঁদাবাজি করছে। কোনো রকম পার্কিং বা টার্মিনালের ব্যবস্থা না করেই, এই রকম অস্বাভাবিক চাঁদাবাজির কারণে মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে।
আলোচনা শেষে দেশের সব পণ্য পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। আন্দোলনের ব্যাপারে এই কমিটি আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানানো হয়েছে। এতে আহ্বায়ক হন মো. রুস্তম আলী খান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান, সদস্য সচিব তাজুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সচিব আব্দুল মান্নান মণ্ডল ও অর্থ সচিব আহম্মদ। মোট ১৬০ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ, মো. রহিম বক্স দুদু। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী। আরো উপস্থিত ছিলেন আব্দুল মান্নান, তাজুল ইসলাম প্রমুখ।