সেই কৈকি রানীর পাশে দাঁড়ালেন মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা

সেই কৈকি রানীর পাশে দাঁড়ালেন মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার গোলাম আজাদ খান। গতকাল শনিবার সকালে অসহায় বিধবা কৈকি রানীর বাড়ি পরিদর্শনকালে বসবাসের জন্য উপযুক্ত একটি ঘর তৈরি করে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। ‘যে ডাল ধরি, সেই ডাল ভাইঙ্গা পড়ে’ শিরোনামে গত ১৯ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদে উল্লেখ করা হয়, পল্লীকবি জসীম উদ্দীনের অমর লেখা ‘আসমানী’ কবিতায় তিনি যে আসমানীকে তুলে ধরেছিলেন, সেই আসমানী আজ বেঁচে নেই। সিংগাইর উপজেলার দক্ষিণ জামসা গ্রামের বৃদ্ধা কৈকি রানী মণ্ডল (৭০) যেন তারই প্রতিচ্ছবি। ঘরের চাল খুলে গেছে। সেই চাল দিয়ে পানি পড়ে। বাঁশের বেড়া ও দরজা-জানালা ভাঙা। চৌকি না থাকায় নিচে ঘুমায়। কুড়ানো পলিথিন ও চটের বস্তা দিয়ে ঘেরা স্যাঁতসেঁতে ঘর। শীতের সময় বাতাস বয়। ঘরের বাইরে মাটির চুলা। কুপি জ্বালিয়ে থাকে। এতটা অসহায়, না দেখলে বোঝার উপায় নেই।

ইত্তেফাকের সংবাদের ভিত্তিতে ঐ দিনই সিংগাইর থানার ওসি সফিকুল ইসলাম মোল্যা ১৫ কেজি চাল, একটি শাড়ি ও নগদ ২ হাজার টাকা পৌঁছে দেন কৈকি রানীর বাড়িতে। এরপর সংবাদটি নজরে এলে পুলিশ সুপার গোলাম আজাদ খান বাস্তব চিত্র দেখে মর্মাহত হয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। পুলিশ সুপারের সহানুভূতি দেখে কৈকি রানী বড়ই খুশি। কান্নার বদলে তার মুখে যেন তৃপ্তির হাসি। ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিঠু কৈকি রানীর সারাজীবনের খাবারের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন। সহকারী পুলিশ সুপার সিংগাইর সার্কেল রেজাউল হক, থানার ওসি সফিকুল ইসলাম মোল্যা, এসআই মাহফুজ ও এসআই জহিরুল হক এ সময় উপস্থিত ছিলেন।