এসি-ডিসি

মাধব রায়, কথাসাহিত্যিক

সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান)

ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট

 

 

 

 

 

গতকালের পর

 

এসিতে শক লাগলে একাধিক বার, সেকেন্ডে ৫০ বার শক লাগে। কিন্তু ডিসিতে শক লাগে একবার। কারণ ডিসি তো সরলরেখায় চলে।

রেখা বলল, বিদ্যুত্ আক্রান্ত হলে মানুষের মৃত্যু কেন হয় বাবা?

নীলকান্তবাবু বললেন, কয়েকটি কারণে। যেমন ধর, মানুষের শরীরের রোধ প্রায় ৫০ হাজার ওহম, শরীর ভেজা থাকলে কমে হয় ১০ হাজার ওহম। তখন এর মধ্যদিয়ে বেশি তড়িত্ প্রবাহিত হয় এবং মাটিতে চলে যায়। তখন ইলেকট্রন মানবদেহের কোষে কোষে আঘাত করে। ফলে কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই ভেজা অবস্থায় বিদ্যুতের যন্ত্রপাতিতে হাত দিতে নেই।

চন্দ্রা বলল, কত বিদ্যুত্ প্রবাহিত হলে শক খায় মামা?

নীলকান্তবাবু বললেন, এটিও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম। যেমন ধর পুরুষ মানুষের ক্ষেত্রে এসি ০.৪ মিলি অ্যাম্পিয়ার, মানে এক অ্যাম্পিয়ারের হাজার ভাগের চার ভাগ, আর ডিসির ক্ষেত্রে ১ মিলি অ্যাম্পিয়ার প্রবাহিত হলে কোনও শক লাগবে না। আর মহিলার ক্ষেত্রে এসি ০.৩ মিলি অ্যাম্পিয়ার, ডিসি ০.৬ মিলি অ্যাম্পিয়ার। আবার এসি পুরুষের ক্ষেত্রে ১.১ হলে একটু ব্যাথা লাগবে কিন্তু শক লাগবে না, মহিলার ক্ষেত্রে ০.৭ , ডিসি আবার পুরুষ ৫.২ , মহিলা ৩.৫  কিন্তু এর বেশি হলেই দুর্ঘটনা ঘটবে, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

বিন্দু বলল, কিন্তু আমরা যে বিদ্যুতের তারে পাখি বসে থাকতে দেখি, এরা তো শক খায় না।

শক খায় না, কারণ তারা তো একটা তারে বসে থাকে, সার্কিট পূর্ণ হয় না। পাখিটা যদি দুটো তার স্পর্শ করে কিংবা কোনওভাবে ভূসংযুক্ত হতে পারে, তাহলে শক খাবে। বাদুর বা অন্য প্রাণী রাতে চলাচল করার সময় সমান্তরাল তারগুলোর মধ্যবর্তী গ্যাপ ঠিকমতো অনুধাবন করতে পারে না, ফলে এক সাথে দুটো তার সংযুক্ত হয়ে যায়। ফলে সার্কিট পূর্ণ হয় এবং তারা মারা যায়।

তাহলে আমাদের এসি আনবে না বাবা? বিন্দু বলল।

নীলকান্তবাবু চুপ করে থাকলেন। কমলা বললেন, এখন না মামণি, বড় হয়ে যাও, তখন তোমরা কিনে এনে লাগিয়ে দিয়ো।

বিন্দু বলল, আচ্ছা।

নীলকান্তবাবু আম খেতে খেতে বললেন, কতগুলো আম কেটে দিয়েছ, শেষই তো হচ্ছে না।

সবাই স্বীকার করল, আম বেশি কাটা  হয়ে গেছে। কমলা বললেন—বেশি কোথায়, তোমার বন্ধুই তো এতগুলো আম পাঠিয়ে দিয়েছেন, না খেলে তো পঁচে যাবে। এত ভালো আম পঁচিয়ে নষ্ট করবে কেন, খাও, আমিও খাচ্ছি। আর তোমার বন্ধু নুরুল হক সাহেবকে বলো, তিনি যেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ট্রান্সফার না হন। তাহলে প্রত্যেক বছর আম পাঠাতে পারবেন।

তুমিই বলো, বললেন নীলকান্তবাবু। কিছু আম প্রতিবেশীদেরকেও দিতে পারো।