জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রযুক্তির উত্কর্ষে বিশ্ব এগিয়ে গেলেও থমকে আছে মানুষের বিবেকের দরজা। এখনো ৯৫ শতাংশ পরিবার তাদের কন্যার বিয়েতে যৌতুক দিতে বাধ্য হয়। শুধু যৌতুকেই থেমে না বিষয়টি—শুরু হয় এ থেকে জঘন্য অপরাধ; খুন, পাচার, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। দেখা গেছে, প্রতি বছর সারা দেশে যে পরিমাণ দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা স্থগিত হয়, এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি স্থগিত থাকে নারী নির্যাতনের মামলা। আর বিপুল হারে নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধির একমাত্র কারণ আইনের বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতা এবং প্রয়োগ-পদ্ধতিতে ত্রুটি। যৌতুকের দাবি ও যৌতুকের জন্য নির্যাতনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকায় ১৯৮০ সালে প্রণীত হয় ‘যৌতুক নিরোধ আইন’। কিন্তু আইন ধনী লোকের কাছে খোলা আকাশের মতো আর দরিদ্রের কাছে মাকড়সার জালের মতো। এ আইনে কাজ হলো না! এর পর প্রয়োগ করা হয় ১৯৯৫ সালের ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ বিধান আইন’। শেষ পর্যন্ত এটাও ব্যর্থ! সর্বশেষ প্রয়োগ করা হয় ২০০০ (২০০৩ সালে সংশোধিত) সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’। এরপরও কমছে না নির্যাতনের হার এবং দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে নির্যাতনের ধরনও! শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত নির্যাতিত হচ্ছে নারী। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং আইনের কঠিন প্রয়োগই পারে এ অন্যায় গোড়া থেকে নির্মূল করতে। আর পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে এই আমূল-পরিবর্তন।
নওরিন জোয়ার্দার
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ,
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া