হাইকোর্ট বলেছে, ‘মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যে ভুল করেছেন, সেটা ইচ্ছাকৃত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে। এটা মারাত্মক অপরাধ। এ ধরনের ভুলের জন্য কি আমরা তাকে ছেড়ে দেব?’ ছোট ভাই হত্যা মামলায় ১২ বছর বয়সি বড় ভাইয়ের কাছ থেকে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের ঘটনায় বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি এম আতোয়ার রহমানের দ্বৈত বেঞ্চ গতকাল রবিবার এ মন্তব্য করে।
১১ জুন একটি ইংরেজি দৈনিকে ‘বিয়ারিং দ্য আনবিয়ারেবল’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ আইনজীবী। রিটে বলা হয়, ২০১৫ সালের ২৫ আগস্ট ৮ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধারের এক দিন পর সারিয়াকান্দি থানায় মামলা করেন তার বাবা মহিদুল। জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে ১২ বছরের বড় ছেলেকে নিয়ে যায়। পরে শিশুটিকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সে।
দিনমজুর মহিদুলের অভিযোগ, খুনিরা প্রভাবশালী। প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা তাদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে ছোট ছেলেকে খুনের স্বীকারোক্তি দিতে বড় ছেলেকে বাধ্য করা হয়েছে। পরে অভিযোগপত্র দিলে তাতে নারাজি দেন তিনি। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ২০১৭ সালে পিবিআইকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয় আদালত।
এই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা বর্তমানে সিআইডির পরিদর্শক নয়ন কুমারকে তলব করে। ঐ তলব আদেশে নয়ন কুমার গতকাল হাইকোর্টে হাজির হন এবং নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করেন। তবে ঐ ক্ষমা প্রার্থনার আবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত বলেছে, উনি কীভাবে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি নিয়েছেন জিজ্ঞেস করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে নারী ও শিশু আদালত পিবিআইকে মামলাটি অধিকতর তদন্ত করতে নির্দেশ দেয়। পিবিআই তদন্ত করার সময় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা নিজেদের জড়িয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। আদালত সন্তুষ্ট হলে ক্ষমা করে দিতে পারেন।
এই পর্যায়ে হাইকোর্ট বলে, ‘উনি ভুল করলে আমরা কি ছেড়ে দেব?’ আইনজীবী বলেন, ‘সেটা আপনাদের বিবেচনার ওপর নির্ভর করছে। আদালত বলে, ‘এটা ভুল নয়, মারাত্মক অপরাধ, যেটা তিনি করেছেন। ১২ বছরের একটি শিশু স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেছে, ‘আমি আমার ভাইকে মেরে ফেলেছি। এটা কি সম্ভব! ১২ বছরের একটি ছেলে ৮ বছরের একটি ছেলেকে মেরে ফেলবে? পিবিআইয়ের কাছে দুজন স্বীকার করেছে, তারা আট বছর বয়সি শিশুটিকে মেরেছে। তাহলে ১২ বছর বয়সি শিশুটির জবানবন্দি কীভাবে নিল এই তদন্ত কর্মকর্তা?’
আইনজীবী বলেন, ঐ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরপর রিটের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানি করেন। শুনানি শেষে ৬ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ঐ দিন নয়ন কুমারকে আদালতে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। এদিকে গতকাল আদালতে পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা মো. মনসুর আলীও হাজির ছিলেন। তিনি আদালতের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।