বাঁশ ও গাছকে খুঁটি বানিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুত্সংযোগ

মৌলভীবাজারের বড়লেখা

বিউবো কুলাউড়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী উসমান গণি বলেন, এলাকাবাসীর লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তখন স্থানীয় নেতাদের জোরাজুরি, তদবিরে লাইন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এটা ঠিক গাছ ও বাঁশের খুঁটি এবং এক লাইন দিয়ে বিদ্যুত্ দেওয়ার কোনো বিধান নাই

তপন কুমার দাস, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

গাছ, বাঁশ ও জীবন্ত গাছকে খুঁটি বানানো হয়েছে। এসব খুঁটি দিয়েই বিদ্যুতের তার টেনে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব খুঁটির কোনোটা ভেঙে বিদ্যুতের তার মাটি ছুঁইছুঁই। অনিরাপদ এই লাইনের কারণে মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা এলাকাবাসীর। বিদ্যুত্প্রবাহ আইন ও বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো)  নীতিমালা পরিপন্থি বিদ্যুত্লাইনের এমন অব্যবস্থাপনার চিত্র মৌলভীবাজারের বড়লেখায়। পাশাপাশি ভূতুড়ে বিদ্যুত্ বিল, লো ভোল্টেজের ভোগান্তিতে আছেন এলাকার দুই শতাধিক গ্রাহক।

ঝুঁকিপূর্ণ লাইন সংস্কার, লো ভোল্টেজ ও ভূতুড়ে বিলের সমাধান এবং লাইন সংস্কারের নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে বিউবো কুলাউড়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরে গত ১৬ আগস্ট একটি লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসী। অনুলিপি দেওয়া হয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক, বিউবো সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী, মৌলভীবাজার কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। 

আবেদন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের কাশেমনগর, পুটাডহর গ্রামে বিউবোর আওতায় দুই শতাধিক গ্রাহক আছেন। প্রায় ১৫ বছর আগে ঐ এলাকায় এলটি বেয়ার (এক ফেইজ কভার ছাড়া তার) দিয়ে বিদ্যুতের লাইন টানা হয়েছে। শুরুর দিকে কিছু পাকা খুঁটি থাকলেও বেশির ভাগই ছিল গাছ ও বাঁশের। একসময় পাকা খুঁটিগুলো ভেঙে গেলে বিউবোর লোকজন জীবন্ত গাছ, গাছ ও বাঁশের খুঁটিতে সঞ্চালন লাইন টেনে বিদ্যুত্ সংযোগ দিয়েছে। এসব তার কোথাও ভূমি থেকে সাত-আট ফুট ওপর দিয়ে টানা। অনেকেই অসাবধানতাবশত গাছ ও বাঁশের খুঁটি ছুঁয়ে বিদ্যুতের শক খেয়েছেন। প্রায় দেড় দশকেও লাইন সংস্কার হয়নি। এছাড়া লো ভোল্টেজে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটছে। ফ্রিজসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়েছে অনেকের। এরই মধ্যে নতুন সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। এরকম অবস্থা দোহালিয়া, গজভাগসহ আরো বেশ কয়েকটি গ্রামে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁশ ও সুপারিগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে বিদ্যুত্লাইনের খুঁটি করা হয়েছে। কোথাও জীবন্ত গাছকে খুঁটি করা হয়েছে। এসব খুঁটি দিয়ে এলটি বেয়ার (এক ফেইজ খোলা লাইন) টেনে গ্রামে ও বাড়িতে প্রবেশ করানো হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ। নিউট্রাল লাইন ব্যবহার করা হয়েছে বাড়ির সীমানা প্রাচীর, শৌচাগার ও পিলারের রডের সঙ্গে। কোথাও তার গাছের ওপর ঝুলে পড়েছে। কোথাও খেতের ফসল ছুঁয়েছে।

কাশেমনগর গ্রামের বাসিন্দা মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘মেইন লাইন মাথার ওপরে। লাইন ঝুললে আমরা বাঁশ দিয়ে উপরে তুলে দেই। কয়েকদিন আগে আমার গাড়িতে মেইন লাইন মাটিতে লেগে দুর্ঘটনা ঘটে। কোনোমতে বেঁচেছি। লাইনে কোনো কাজ হয় না। নিত্যদিন লো ভোল্টেজ থাকে। বিদ্যুত্ নেওয়ার শুরু থেকে এ অবস্থা। তারা রিডিং না দেখেই ইচ্ছেমতো বিল দেয়। না দিলে হয়রানি করে।’

দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আজির উদ্দিন বলেন, ‘প্রধান সমস্যা হচ্ছে লো ভোল্টেজ। একটি পরিবারে সব লাইট বন্ধ করেও কোনোরকম একটি ফ্যান চালানো যায় না। ব্যক্তিগতভাবে প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ করে এলাকাবাসী লাইন এনেছে। বিউবো দায়িত্ব নেওয়ার পরেও ট্রান্সফরমার চেঞ্জ করে না। গ্রাহকদের নিজেদের টাকায় ট্রান্সফরমার কিনে আনলে পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। লাইনটা ঝুঁকিপূর্ণ এটাও সংস্কার করা হচ্ছে না।’ 

বিউবো কুলাউড়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী উসমান গণি বলেন, ‘এলাকাবাসীর লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। গাছ ও বাঁশ দিয়ে জোর করে তো কারো বাড়িতে লাইন দেওয়া হয়নি। তখন স্থানীয় নেতাদের জোরাজুরি, তদবিরে লাইন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এটা ঠিক গাছ ও বাঁশের খুঁটি এবং এক লাইন দিয়ে বিদ্যুত্ দেওয়ার কোনো বিধান নাই। তবে এখন নতুন করে এভাবে লাইন দেওয়া হচ্ছে না। একটা প্রজেক্ট আসছে। সমস্যার সমাধান হবে। কিছু পরিবর্তনে কাজ শুরু হয়েছে।’