কালো হচ্ছে পানি
নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান বলেন, বড়ালকে নিয়ে একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে বড়াল আবারও খনন করা যাবে
চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা
চাটমোহরে দখলের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে দূষণের শিকার হচ্ছে বড়াল নদ। বর্জ্য, ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে বড়াল নদ। ফলে বড়ালের পানি কালো হয়ে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত বড়ালে ফেলা হচ্ছে হোটেল-রেস্তোরাঁ, হাসপাতাল-ক্লিনিকের বর্জ্য, মুরগির উচ্ছিষ্ট আর পৌরসভাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ময়লা। বড়াল পাড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য মুরগির খামার। এই সব খামারের পাইপ নামানো হয়েছে এ নদে।
দেখা গেছে, চাটমোহর পৌর এলাকার পুরাতন বাজার ও নতুন বাজার খেয়াঘাটে প্রতিদিন ময়লা ফেলে স্তূপ করা হচ্ছে। সেই ময়লা এখন মিশে যাচ্ছে নদের পানিতে। বড়াল রাজশাহীর চারঘাট থেকে নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যমুনায় মিশেছে পাবনার বেড়া উপজেলার কাছে। বড়াল চলনবিলের প্রধান নদ। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫০ কিলোমিটার ও প্রস্থ প্রায় ১২৫ মিটার। বড়ালকে বাঁচাতে পাবনার চাটমোহরসহ বিভিন্ন এলাকায় বড়াল নদ রক্ষা কমিটি হয়েছে। কমিটির নেতারা স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে বিভিন্ন আন্দোলনও করে আসছেন। শেষে বড়ালে পদ্মার পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ঠিক রাখতে এবং নাব্য ফিরিয়ে আনতে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে নাটোরের নারদ ও মুসা খাঁ নদের আংশিক এবং চারঘাটের বড়ালের প্রবেশমুখ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৩ কোটি ৩ লাখ টাকার প্রকল্পে নারদ, মুসা খাঁ ও বড়ালের প্রায় ১৯ দশমিক ১০ কিলোমিটার খনন করা হয়। এছাড়া চাটমোহর উপজেলায় বড়ালের ওপর নির্মিত চারটি বাঁধ অপসারণ করা হয়। নির্মাণ করা হয় ব্রিজ।
বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব এস এম মিজানুর রহমান বলেন, বর্ষা মৌসুমের মতো সারা বছর বড়ালে পানি থাকলেই একে বাঁচানো সম্ভব। বড়াল যেভাবে দখল হয়েছে, যা এখনো হচ্ছে, সেটি রোধ করা দরকার। একই সঙ্গে বড়াল এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। সব এলাকার বর্জ্য, ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে বড়ালে। এ বিষয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।
বড়াল নদ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান বলেন, বড়ালকে নিয়ে একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হয়েছে। সেটি ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে জমাও দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি যদি অনুমোদন পায় তাহলে বড়াল আবারও খনন করা যাবে। স্লুুইসগেটগুলো সংস্কার করা হবে। তখন স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত হবে। এতে বড়ালে সারা বছরই পানি থাকবে।
পাবনা জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল হোসেন এক ভার্চুয়াল সংলাপে বলেন, বড়াল, ইছামতিসহ সব নদী দখল ও দূষণরোধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নদী বাঁচাতে সরকার বদ্ধপরিকর।